থধ্রুব ডেস্ক
সোমবার শেষ প্রচারণায় অংশ নেন যশোর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদের ছবি: ধ্রুব নিউজ
ভোটার ও প্রার্থীদের নানামুখী উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং শেষ মুহূর্তের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আইন অনুযায়ী সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কেবল ভোটের মাঠ সাজানো এবং ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষা।
ভোট নিয়ে এতসব ব্যস্ততার মধ্যেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নানান অভিযোগ নিয়ে আসছেন রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল সোমবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে নানান অভিযোগ জানান। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও করেছেন অভিযোগ। অন্যদিকে ইসিও বসে নেই। নির্বাচনে সারা দেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৪৬১টি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে ২৫৯টি মামলা দায়ের ও ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করেছেন। এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণের পর দিন বিকাল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবে না। একই সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা মিছিল, শোডাউন বা জনসভাও করতে পারবেন না।
এদিকে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরবর্তীকালে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইসি। ভোটগ্রহণের দিন বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি এবং সরকার। এ সময়ে সংস্কারকাজে কোথাও টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই ঘণ্টা পরপর প্রদত্ত ভোটের হার নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সিস্টেমে আপডেট দেওয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
১১ দলীয় জোটের পক্ষে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি রাখা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি ইলেকশনে বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করেন। ওনারা বলেছেন যে, এই ব্যাপারে আরপিওতে কিছু বিধিবদ্ধ বিষয় আছে। তার পরও চূড়ান্তভাবে ওনারা করেননি। এটাকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তারা বিষয়টি ভাববেন। আমরা বলেছি যে, এবারের নির্বাচন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে এবং গত তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে মানুষের স্বাভাবিকভাবে আবেগ-আগ্রহ এবং উত্সাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি পারা যায় সাপোর্টিং এসব ফোর্সকে দেওয়া উচিত। যাতে সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনটা নিশ্চিত হয়।’ এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসুদ বলেছেন, ‘৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে। এটি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে নির্বাচনী আমেজ নষ্টের অপপ্রয়াস দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কয়েম। সাদিক কায়েম বলেন, ‘বাংলাদেশের ৪ কোটি তরুণ ভোটার আছেন, তাদের কথাগুলো বলতে এসেছি। নির্বাচনের আমেজকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রয়াস ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেই ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে আমাদের কনসার্নগুলো জানার জন্য এসেছি।’
সিইসির সঙ্গে দেখা করে কাদের সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উত্সাহ এবং উদ্দীপনা দেখা যায়, তা তিনি রাস্তাঘাটে অনুভব করতে পারছেন না। রাস্তাঘাটে মানুষের উত্সাহ খুবই কম। নির্বাচনে কোথাও জামায়াত এবং কোথাও বিএনপি খুবই শক্তি খাটাবার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন কমিশন তার অভিযোগ শুনেছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানিয়েছে—গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাত্ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করা যাবে না।
এদিকে ভোট গ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।
বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে ভোটের মাঠ লাইভ দেখবে ইসি ও সরকার :নির্বাচনে বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি। একই সঙ্গে ড্রোনের লাইভ ফিড দেওয়া হবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী তাদের নিজ নিজ ড্রোন ভোটের মাঠে ওড়াবে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।