অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে উঠলে যে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস সরদার। দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও সম্প্রতি তাকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নাশকতার মামলার এই ৩৬ নম্বর আসামি বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার এই দ্বিমুখী ভূমিকা স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং প্রতিবেদকের হাতে আসা ছবিতে দেখা যায়, নির্বাচনী একটি জনসভায় ধানের শীষের ব্যানার সংবলিত মঞ্চে ইলিয়াস সরদার অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন দাপট দেখালেও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি খোলস পাল্টানোর চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ইলিয়াস সরদার কেবল আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাই নন, তিনি এই অঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী শান্তর অন্যতম প্রধান সহযোগী। শান্তর নাম শুনলে অভয়নগর ও নওয়াপাড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয়। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং জবরদখলের মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইলিয়াস এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত জুলাই মাসে বৈক্ষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাধারণ ছাত্র ও জনগণের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একটি নাশকতার মামলায় ইলিয়াস সরদারকে ৩৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের দমাতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন সময় গা ঢাকা দিলেও মাঝে মাঝেই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আবহে তার উপস্থিতি জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় ৯ নং ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইলিয়াস সরদার সুযোগসন্ধানী। যে সরকারই আসুক, সে নিজের স্বার্থে খোলস পাল্টায়। জুলাই মাসে ছাত্রদের রক্ত ঝরিয়ে এখন আবার ধানের শীষের তলে আশ্রয় নিয়ে সাধু হওয়ার নাটক করছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নাশকতার মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। মূলত আদর্শহীন রাজনীতি যখন ব্যক্তিগত আখের গোছানোর হাতিয়ার হয়, তখন ইলিয়াস সরদারের মতো নেতারা বারবার দৃশ্যপটে আসেন। জুলাইয়ের শহিদদের রক্ত ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করে এভাবে পার পাওয়ার চেষ্টা রুখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।