Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মধ্যরাতের আতঙ্ক: কেশবপুরে প্রার্থীর বাড়িতে ককটেল হামলা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
মধ্যরাতের আতঙ্ক: কেশবপুরে প্রার্থীর বাড়িতে ককটেল হামলা

বাংলার শান্ত জনপদ যশোর-৬ আসনের (কেশবপুর) আকাশ তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১টা ১০ মিনিট। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল পৌরসভা এলাকার বাতাস। সাধারণ কোনো শব্দ নয়, এ ছিল বারুদের গন্ধমাখা এক রাজনৈতিক ভীতির হুংকার। ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী মোক্তার আলীর বাসভবনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সহিংসতা এক নতুন মাত্রা পেল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মোক্তার আলীর ছেলে মুরশিদুল মারুফ জানান, গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই হঠাৎ দুটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেও অন্ধকারের সুযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রার্থীর নিজের বাড়িতেই যদি এমন নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, তবে সাধারণ ভোটারদের অবস্থা কী হবে—সেই প্রশ্নই এখন কেশবপুরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে।

আজ সোমবার সকালে পৌর জামায়াত কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সাইদুর রহমান। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধু একটি হামলা নয়, বরং সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার এক হীন কৌশল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা, ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার নিশ্চিত করা, প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সকল অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায় জানান, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে জর্দার কৌটার ভাঙা অংশ ও স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি নিছক ভয় দেখানো নাকি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুনও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে কেশবপুরের সাধারণ মানুষ শঙ্কিত। ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে যাওয়ার আগেই যদি ককটেলের শব্দে কানে তালি লেগে যায়, তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কতটা বজায় থাকবে? মোক্তার আলীর বাড়ির সামনে এখন মানুষের ভিড়, কিন্তু সবার চোখে-মুখে এক অজানা ভয়। একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। কেশবপুরের এই ঘটনা যেন আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, রাজনীতির ময়দানে পেশিশক্তির আস্ফালন এখনো জনজীবনের স্বস্তি কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কতটা দ্রুততার সাথে এই ‘মর্মস্পর্শী’ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)