বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
বাঘারপাড়া উপজেলার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, রাজনীতিবিদ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকী ছবি: ফাইল
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, রাজনীতিবিদ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকী আর নেই। শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ২ টার দিকে খুলনা সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবু তাহের সিদ্দিকী হঠাৎ নিওমোনিয়া ও স্ট্রোকজনিত সমস্যার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পর শুক্রবার বিকেলে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার মৃত্যুর সংবাদ বাঘারপাড়ায় পৌঁছালে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। বাঘারপাড়ার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে থাকা এই নেতার অবদান স্থানীয় জনগণ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন বাঘারপাড়ার রাজনীতির এক অবিসংবাদিত নেতা এবং 'কিংমেকার' হিসেবে পরিচিত। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কেবল একজন নেতাই ছিলেন না, বরং রাজনৈতিক কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রজ্ঞা ছিল অতুলনীয়। স্থানীয় রাজনীতিতে যেকোনো সংকটকালীন মুহূর্তে তার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শোকবার্তায় তারা বলেন, আবু তাহের সিদ্দিকীর মৃত্যুতে বাঘারপাড়া এক অভিভাবককে হারালো; রাজনীতির ময়দানে তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মরহুমের জানাজার নামাজ আগামী রোববার বাদ জোহর বাঘারপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে দাফন করা হবে। মরহুমের একমাত্র পুত্র অস্ট্রেলিয়ায় পড়া-লেখা করছে। তার উপস্থিতির জন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে জানাজা ও দাফন।