ধ্রুব ডেস্ক
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ছবি: ফাইল
‘ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।’ মন্তব্য করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’ সিএনএন এর তথ্য সূত্র এমন খবর দিচ্ছে।
‘আমি শুনছি যে তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের স্বার্থে তাঁর একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত। আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।’ এমন কথাও বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য খামেনির মৃত্যুর খবরকে একটি ‘গুজব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে তিনি এখনো প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে চুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর কাছে কোন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
এনবিসি নিউজকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না, কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট ভালো নয়।’ তিনি আরও বলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে ‘অত্যন্ত জোরালো’। তবে চুক্তির শর্তাবলির বিস্তারিত জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে আপনাকে তা বলতে চাই না।’
এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কাউকে সমর্থন করেন কি না এমন বিষয় জানতে চাইলে, তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। শুধু বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা ওই দেশের ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত নেতা হতে পারেন।’
ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার তেল খাতের ওপর থেকে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন।তিনি জানান, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর যেসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সংকট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ‘আবার বহাল করা হবে’।তিনি বলেন, ‘আমি চাই বিশ্বের জন্য তেলের সরবরাহ (স্বাভাবিক) থাকুক। আমি তেল চাই।’
‘ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বিশ্বস্ত দাবি করেন তিনি। ইরানবিরোধী ইউক্রেনের সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘ভলোদিমির জেলেনস্কি হলেন শেষ ব্যক্তি, যাঁর কাছ থেকে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন।’ রুশ ড্রোন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে ইউক্রেন।