Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কিউবায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ৪ শাবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই,২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
কিউবায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ৪ শাবক

কিউবার চিড়িয়াখানায় জন্ম নিয়েছে ৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শাবক। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র জ্বালানি সংকট, ওষুধের অভাব এবং দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীনতার মধ্যে থাকা কিউবায় এক টুকরো স্বস্তির আলো নিয়ে এসেছে দেশটির জাতীয় চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া চারটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার শাবক। এদের মধ্যে একটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ। কিউবার চিড়িয়াখানা কর্মীদের কাছে চরম সংকটের এই সময়ে এটি একটি ‘ছোট্ট অলৌকিক ঘটনা’।

িড়িয়াখানার অভিজ্ঞ কর্মী আনহেল কর্দেরোর কাছে এই বিলুপ্তপ্রায় বাঘের শাবকদের খাঁচায় খেলা করতে দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি জানান, এই ঘটনা সংকটকবলিত দ্বীপরাষ্ট্রটির চিড়িয়াখানা কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

৪৪ বছর ধরে এই চিড়িয়াখানায় কর্মরত কর্দেরো বলেন, ‘কিউবার ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো কোনো সাদা বাঘের জন্ম নেওয়ার ঘটনা। আর আমি নিজেই সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরেছি।’ প্রচণ্ড গরম আর অন্তহীন সমস্যার মধ্যেও তাঁর চোখেমুখে ছিল গর্বের স্পষ্ট ছাপ।

দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে কিউবার অনেক কঠিন সময় প্রত্যক্ষ করেছেন কর্দেরো। তবে তিনি জানান, মার্কিন জ্বালানি অবরোধের পর বর্তমান পরিস্থিতি অভূতপূর্ব ও সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে সিংহ ও বাঘের খাঁচাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ—যা তিনি নিজেই তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন—তা এখন তীব্র সংকটের মুখে।

চিড়িয়াখানার মহিষ, জেব্রা, গন্ডার এবং জলহস্তীসহ বিশাল প্রাণী সাম্রাজ্যের খাবার সরবরাহের জন্য প্রতিদিন গড়ে ২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে তাঁরা বরাদ্দ পাচ্ছেন মাত্র ৫ লিটার। ফলে প্রাণীদের পর্যাপ্ত খাবার ও খাঁচাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে গাড়ি ব্যবহার করতে না পেরে কর্দেরোর মতো কর্মীরা এখন ৩৭৫ হেক্টর (৯২৬ একর) আয়তনের বিশাল এই চিড়িয়াখানা চত্বরে যাতায়াতের জন্য ঘোড়ার গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবহার করছেন।

কর্দেরো দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে সবকিছুই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। প্রাণীদের এক খাঁচা থেকে অন্য খাঁচায় নেওয়া কিংবা আফ্রিকান সাভানা অঞ্চলের প্রাণীদের জন্য খাবার পৌঁছানো—সবকিছুই চাকার ওপর সচল রাখতে হয়। জ্বালানি ছাড়া এটি করার অন্য কোনো উপায় নেই।’

তবে এই তীব্র বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও চিড়িয়াখানার প্রাণীদের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার পরিচালক হুয়ান কার্লোস সান্তোস।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চিড়িয়াখানা কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম এবং ক্ষুদ্র বেসরকারি খাতের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের কারণে প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা প্রাণীদের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ দিয়ে সাহায্য করছেন।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, কিউবার সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিকে একটি মুক্তবাজার মডেলে রূপান্তর করার জন্য সম্প্রতি যে অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে চিড়িয়াখানার কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের নতুন উৎস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)