বাঘারপাড়া প্রতিনিধি
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভূপালী সরকার জামদিয়া ইউনিয়নের ভিটাবল্যা বাজার সংলগ্ন দীঘিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের বাঘারপাড়ায় কৃষি জমি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রয়কে একটি মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আজ ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ জনকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভূপালী সরকার জামদিয়া ইউনিয়নের ভিটাবল্যা বাজার সংলগ্ন দীঘিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সেখানে আইনের তোয়াক্কা না করে একদল অসাধু চক্র দীঘি ও ফসলি জমির মাটি কেটে পাচার করছিল।
অভিযানে 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০'-এর ৪ নম্বর ধারা স্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে উক্ত আইনের ১৫ নম্বর ধারার আদালত তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে আর্থিক ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: ১. ভিটাবল্যা গ্রামের ইনসার মোল্যার ছেলে নাসির উদ্দীন (৩৮)। . একই গ্রামের ইয়াকুব সর্দারের ছেলে আব্বাস সর্দার (৪০)। ৩. মাগুরা জেলার ঝুনারী এলাকার টিপু মোল্যার ছেলে মিরাজ হোসেন বিপ্লব (২১)।
সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং উক্ত জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বলে আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া কৃষি ব্যবস্থার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি চিরতরে নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। বাঘারপাড়া এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বাড়ায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছিল। প্রশাসনের এই কঠোর অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।