ধ্রুব ডেস্ক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক একাডেমিক গবেষণার মানদণ্ডে ভয়াবহ অনিয়ম, উপাত্ত জালিয়াতি এবং জালিয়াতি চক্রের সহায়তা নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী (জার্নাল) থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নিবন্ধ প্রত্যাহারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদের নামও যুক্ত রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশি লেখকদের অন্তত ৩২৫টি নিবন্ধ প্রত্যাহারের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে দেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গন ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মার্চ সময়ের মধ্যে যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাম থাকা ১০টি নিবন্ধ বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মে মাসে আরও একটি নিবন্ধ বাতিল হলে যবিপ্রবির নাম যুক্ত থাকা মোট প্রত্যাহারকৃত নিবন্ধের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যবিপ্রবির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদের দুটি গবেষণাপত্র একই বছরের জানুয়ারিতে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘হিন্দাউই’ প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি এসব নিবন্ধের সহলেখক ছিলেন। বাতিল হওয়া নিবন্ধ দুটির একটি ছিল দেশে উৎপাদিত শজনে বীজের নির্যাসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ নিয়ে এবং অন্যটি ছিল সেলুলোজভিত্তিক বিশেষ ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহারের কার্যকারিতা সংক্রান্ত।
প্রকাশনা সংস্থা হিন্দাউইয়ের গভীর তদন্তে উঠে আসে, ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় বাস্তব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না চালিয়েই নিবন্ধ দুটির তথ্য ও ফলাফল মনগড়াভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। তদন্তে আরও উন্মোচিত হয় যে, নিবন্ধগুলো মূলতঃ ‘পেপার মিল’ বা অর্থ বিনিময়ে অবৈধভাবে গবেষণাপত্র তৈরি ও বিক্রি করা চক্রের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এমনকি নিরপেক্ষ বিজ্ঞানীদের দিয়ে পর্যালোচনার (পিয়ার-রিভিউ) প্রক্রিয়াতেও ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করা হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক উপাচার্য মো. আবদুল মজিদ দাবি করেন, প্রকাশনা কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেনি এবং তিনি এতে শুধু ধারণাগত (আইডিয়া) মতামত দিয়ে যুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাজ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট গবেষকদের কোনো একাডেমিক পুরস্কার প্রদান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সানডিয়েগোর নিউরোসায়েন্স বিভাগের গবেষক নাদিম মাহমুদসহ একাডেমিশিয়ানদের মতে, গবেষণায় চুরি ও জালিয়াতি উন্নত বিশ্বে নৈতিক স্খলন হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য কঠোর একাডেমিক শাস্তির বিধান রয়েছে। দেশীয় বিজ্ঞান চর্চার স্বার্থে বাংলাদেশেও দ্রুত এমন কঠোর জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সূত্র : প্রথমআলো