ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী। এ ছাড়াও কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ১৭ পরীক্ষার্থীকে।
আজ বিকেলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আজ এইচএসসি (সাধারণ) ‘বাংলা দ্বিতীয় পত্র’, আলিমে ‘আরবি প্রথম পত্র’ ও ‘আরবি সাহিত্য’ এবং এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএমটি ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সে ‘ইংরেজি-২’ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে। এই পরীক্ষায় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৪ পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নিয়েছেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে সাতজনকে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের হিসাবে বহিষ্কার শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বোর্ডের একজন, কুমিল্লার ২, বরিশালের ২, দিনাজপুরের একজন এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের একজন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমের আরবি প্রথম পত্র ও আরবি সাহিত্য পরীক্ষায় সাত পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আলিমের ৪৬০টি কেন্দ্রে ৮৪ হাজার ২৯৩ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেন ৭৯ হাজার ৯১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ২০২ পরীক্ষার্থী।
এইচএসসি ভোকেশনাল, বিএমটি ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষায় ৩ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার ও ২ হাজার ৪৮৬ জন অনুপস্থিত থাকার তথ্য দিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে এদিন ইংরেজি-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় বসেছেন ৮৩ হাজার ২৬৩ জন। ২ হাজার ৪৮৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং ৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে কোনো ধরনের বহিষ্কার ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১০ জেলার দ্বিতীয় দিনের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও হার দুটোই বেড়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) ২য় পত্র (বিষয় কোড-১০২) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগ সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে।
অনুপস্থিতির পরিসংখ্যান
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের আওতাধীন ১০ জেলার ২৪০টি কেন্দ্রে শনিবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮৪ হাজার ৪২২ জন। বাকি ২ হাজার ৩৬২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। শতকরা হিসেবে এদিন অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
গত বছর (২০২৫ সাল) একই পরীক্ষার দিনে অনুপস্থিতির হার ছিল ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মোট অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৮৯ জন। সেই তুলনায় এবার অনুপস্থিতির হার ও সংখ্যা দুটোই বেশি।
জেলাভিত্তিক চিত্র
বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল মেহেরপুর জেলায়। এই জেলায় অনুপস্থিতির হার ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ, যেখানে মোট অনুপস্থিত ছিল ৭৭ জন।
অন্যদিকে, সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল খুলনা জেলায়। এ জেলায় মোট ৪৮৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, যার হার ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।