আমিরুল ইসলাম, খুলনা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঠিক এক বছর আগের কথা। শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন, অনশন আর স্লোগানে উত্তাল ছিল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাস। যে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদকেই পুনরায় কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই চমকপ্রদ ঘোষণা দেন। বছর না পেরোতেই মাছুদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন শিক্ষা অঙ্গনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কুয়েটে ছাত্রদল-যুবদলের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। অর্ধশতাধিক আহতের সেই ঘটনার পর সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য হল ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ১৪ এপ্রিলের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল পাহাড়সম। তাদের দাবি ছিল, বহিরাগতদের হামলার সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো আন্দোলন দমাতে হলের পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা এবং তাদের নামে মামলা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় ভিসির প্রত্যক্ষ মদত। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে 'এক দফা' দাবিতে অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা। উত্তপ্ত সেই পরিস্থিতির মুখে ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদকে পদ থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য হয়েছিল।
তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী তাকে পুনরায় দায়িত্ব প্রদানের কথা জানান। এক বছর আগে যে চেয়ারটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে ছাড়তে হয়েছিল, সেই চেয়ারেই আবার বসতে যাচ্ছেন তিনি।