ধ্রুব ডেস্ক
আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। অন্য ব্যাংকেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছে সংগঠনটি। আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দ্রুত চলমান সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দুপুর ২টার দিকে বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটি ঘিরে চলমান অস্থিরতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
তিনি জানান, বৈঠকে আলোচনা হয় ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি এখন কেবল ব্যাংকিং খাতের বিষয় নয়। বরং একটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে গেছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন গভর্নর।
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় এ ঋণ বিতরণ হবে। বৈঠকে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গভর্নর। বৈঠকে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে গভর্নরকে জানাতে বলেন। একইসঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)–তে সঠিক তথ্য দিতে নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ ব্যবস্থায় পরিচালকেরা দেশের বাইরে বা ঢাকার বাইরে অবস্থান করেও যেন অনলাইনে বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন সে দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার প্রচারে যৌথভাবে বড় ধরনের কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। একই সময়ে দেশীয় পেমেন্ট কার্ড ‘টাকা পে’ আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।