বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানের কাছে বন্দরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলো সবিস্তারে অবহিত করেছেন কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতা ও চলমান তীব্র সংকট নিরসনে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমানের কাছে বন্দরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলো সবিস্তারে অবহিত করেছেন কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান।
আজ সোমবার দুপুর দুইটার দিকে কাস্টমস কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সংসদ সদস্যের সামনে বন্দরের এই অচলাবস্থা ও সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়। বৈঠকে কাস্টমস ও বন্দরসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দ্রুত পণ্য খালাস, ট্রাকজট নিরসন, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ একাধিক বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের করণীয় নিয়ে কথা বলেন সংসদ সদস্য।
বৈঠকে সংসদ সদস্য জানান, বর্ডারের কার্গো শাখায় দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের আইজিএম এন্ট্রি ও কারপাস প্রদান প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া তথ্য এন্ট্রিতে ঘন ঘন ভুল হওয়ায় তা সংশোধনে দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এই জনবল সংকট দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় আলোচনায় উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে প্রতিদিন মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০টি ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে; অথচ বর্তমানে ভারতে দেড় হাজারের বেশি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বাণিজ্য সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক প্রবেশের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক দ্রুত ভারতে প্রবেশের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়।
বৈঠকে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা, বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে থাকা নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য অপসারণ এবং ভারত থেকে সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য ও সব ধরনের গার্মেন্টস পণ্য ভারতে রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও সংসদ সদস্যের সামনে আসে।
বন্দরসংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্রেন ও ফর্কলিফট বিকল থাকায় পণ্য ওঠানামায় ভোগান্তি, ফর্কলিফট শেড ও গুদাম বাড়ানো, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ, বিভিন্ন শেড থেকে অবৈধ লোকজন অপসারণ এবং বন্দর এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ক্যান্টিন ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। সেই সাথে বর্ডারের ২৫ একর এলাকা থেকে ছোট আঁচড়ার মোড় পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সংসদ সদস্যের উত্থাপিত এসব সংকটের জবাবে কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা, জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট এবং আইনি জটিলতার বিষয়গুলো তার কাছে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন এবং সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা থানা জামায়াতের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার তৈয়্যবুর রহমান জাহাঙ্গীর, বেনাপোল পোর্ট থানা শাখার আমির মো. রেজাউল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মতিউর রহমান।