Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মোটরসাইকেলে বাড়তি কর, রেহাই পাচ্ছে না অটোরিকশাও

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে,২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
মোটরসাইকেলে বাড়তি কর, রেহাই পাচ্ছে না অটোরিকশাও

ছবি: টিবিএস

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের লাখ লাখ মোটরসাইকেলের জন্য নতুন অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছে। একই সঙ্গে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (সিসি) যানবাহনের ওপর বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজস্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি দেশে "বাংলা টেসলা" নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোর ওপরও অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গতকাল বাজেট সংক্রান্ত একটি সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে ইংরেজি দৈনিক টিবিএস।

ওই কর্মকর্তা জানান, যানবাহন নিবন্ধনের সময় সংগৃহীত বিদ্যমান রোড ট্যাক্সের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে এনবিআর। পাশাপাশি, অন্যান্য মোটরযানের ইঞ্জিন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান এআইটি-ও বাড়ানো হতে পারে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএস-কে এই প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই কর বৃদ্ধি মূলত উচ্চ সিসি-র যানবাহনগুলোকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, যাদের মালিকরা সাধারণত সচ্ছল হয়ে থাকেন।

বিলাসবহুল খাত থেকে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও, প্রস্তাবিত বৃদ্ধির সঠিক হার সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিআরটিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ২.৩ লাখের বেশি নিবন্ধিত স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) রয়েছে। সাধারণত ফুল-সাইজ বা লাক্সারি এসইউভি ২,৫০০ সিসি থেকে ৪,০০০ সিসি-র বেশি হয়ে থাকে। ২০২৫ সালে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের এক তদন্ত অনুযায়ী, দেশে ৩,০০০ সিসি-র বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার অন্তত ৫,২৮৮টি বিলাসবহুল গাড়ি বিআরটিএ-তে নিবন্ধিত আছে।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকরা নিবন্ধন ফি-র সঙ্গে রোড ট্যাক্স প্রদান করেন। ২ বছরের জন্য এই ট্যাক্স ২,৩০০ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ১১,৫০০ টাকা। অন্যান্য মোটরযানের ক্ষেত্রে ইঞ্জিন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক কর বর্তমানে ২৫,০০০ টাকা থেকে ৩,৫০‌০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

এনবিআর জানিয়েছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলগুলো সম্ভবত এই নতুন অগ্রিম আয়করের আওতামুক্ত থাকবে। ১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি-র মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক ২,০০০ টাকা এবং ১২৬ সিসি থেকে ১৬৫ সিসি-র বাইক মালিকদের বছরে ৫,০০০ টাকা কর দিতে হতে পারে। ১৬৫ সিসি-র ওপরের ইঞ্জিন সম্পন্ন মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক অগ্রিম আয়কর ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।

এনবিআর কর্মকর্তা বলেন, করের পরিধি বাড়ানো এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করাই এই প্রস্তাবের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, "অগ্রিম আয়কর দেওয়া হলেও, করদাতারা বছরের শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই অর্থ সমন্বয় করতে পারবেন।"

বিআরটিএ-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪৮ লাখের বেশি নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দামি মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক হতে পারে, তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে বিপুল সংখ্যক বাইক ব্যবহারকারী মূলত রাইড-শেয়ারিং চালক, ডেলিভারি কর্মী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং বিক্রয় প্রতিনিধি। অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারও যাতায়াতের সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে এটি ব্যবহার করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপ নিম্ন আয়ের মানুষের খরচ বাড়িয়ে দেবে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ মো. আমিনুল করিম অবশ্য এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "মোটরসাইকেলের ওপর এআইটি আরোপ করা রাজস্বের দিক থেকে যৌক্তিক হবে কারণ এটি স্বচ্ছতা বাড়াবে।"

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, সরকারের কর আদায় বাড়ানো প্রয়োজন। "২০১৪ সালে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১০.২%, যা এখন ৭%-এর নিচে নেমে এসেছে।" তবে তিনি যোগ করেন যে, নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত কম সিসি-র বাইকগুলোকে করের আওতায় আনা ঠিক হবে না।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা আলী আহমেদ টিবিএস-কে বলেন, এই প্রস্তাব সাধারণ চালকদের ওপর চাপ বাড়াবে। তিনি বলেন, "আমি ১২৫ সিসি-র বাইক চালাই। আয় কমেছে কিন্তু খরচ বেড়েছে। এর ওপর যদি প্রতি বছর ট্যাক্স দিতে হয়, তবে সংসার চলবে কীভাবে?"

রয়্যাল এনফিল্ড এবং ইয়ামাহা আর১৫-এর মতো দামি বাইক বাজারে আসার পর মোটরসাইকেলে কর আরোপের আলোচনা জোরালো হয়। অনেকের মতে, যারা লাখ লাখ টাকা দিয়ে দামি বাইক কিনছেন, তাদের আয়কর ফাইল পরীক্ষা করা উচিত।

এনবিআর সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য বার্ষিক ৫,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পৌরসভা এলাকায় ২,০০০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ১,০০০ টাকা কর হতে পারে।

সারা দেশে এসব রিকশার কোনো সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা দেশে ৩০ লাখের বেশি এ ধরনের যানবাহন রয়েছে। সরকার ২০২৫ সালে 'ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানেজমেন্ট পলিসি' খসড়া করেছে যাতে এগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকাংশ রিকশা অনিবন্ধিত হওয়ায় তাদের করের আওতায় আনা কঠিন হবে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)