নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ রোববার প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এক মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ বাইকার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে দাবি করেছেন মোটরযান ব্যবহারকারীরা। এই কর প্রত্যাহারের দাবিতে আজ রোববার প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এক মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ বাইকার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। এতে জেলার বিভিন্ন বাইকিং কমিউনিটির প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী অংশ নেন।
যশোর বাইকিং কমিউনিটির এডমিন ও সংগঠনের সভাপতি এসকে সুজন এই মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর বাইকিং কমিউনিটি ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের এডমিন পিয়াল, যশোর ফায়ার রাইডার্সের এডমিন রাব্বি, যশোর স্কোয়াড রাইডার্সের এডমিন কাজী রাকিব, ডেঞ্জারাস বাইক রাইডার্সের এডমিন পিএইচ রকি, সিটি রাইডার্সের এডমিন শহিদুল, ফ্রিডম বাইক রাইডার্সের এডমিন সাগর এবং যশোর দেশি বাইকারের কো-অর্ডিনেটর ইমরানসহ সংগঠনের স্থানীয় সদস্যবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেশের লাখো মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে মোটরসাইকেল শুধু শখের বাহন নয়; বরং অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রাইড শেয়ার চালক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর দৈনন্দিন যাতায়াত এবং জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে নারী মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচলেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
তারা আরও বলেন, বৈধভাবে মোটরসাইকেল ক্রয়, রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বীমা ও জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধের পর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। স্মারকলিপিতে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার বা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা, মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা না করা এবং পরিবহন খাতকে জনবান্ধব রাখার জোর দাবি জানানো হয়।