নিজস্ব প্রতিবেদক
“মাত্র কয়েক হাজার টাকায় স্ক্র্যাচ কার্ড কিনলেই ভাগ্য বদলে পাবেন লাখ টাকা বা দামি উপহার”—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন লোভনীয় লাইভ ডিসপ্লে সাজিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে আসছিল একটি প্রতারক চক্র। প্রতারণার এই অভিনব ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল লাখ লাখ টাকা। অবশেষে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার সেই গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জুয়াড়ি চক্রের আট সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিপিসি-৩, র্যাব-৬ যশোরের একটি আভিযানিক দল এ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে শাহীন আলম (৩২), শ্যামনগর উপজেলার পরানপুর গ্রামের বিল্লাল গাজীর ছেলে বাপ্পী হোসেন (২৫), মিন্দিনগর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২২), কালীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের শাহিনুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা (২৪), একই গ্রামের হোসেন গাজীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৩), সালাম সরদারের ছেলে ফয়সাল হোসেন (২১), মলেঙ্গা গ্রামের আব্দার রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন (২৬) এবং মরাগাছা গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে মিলন (২৪)।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে জুয়া ও প্রতারণায় ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ১০টি স্মার্টফোন এবং বিপুল পরিমাণ লটারি বিক্রির স্ক্র্যাচ কার্ড জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, চক্রটি মূলত প্রবাসী ও সহজ-সরল যুবকদের টার্গেট করত। ডিজিটাল প্লাটফর্মে ‘ভাগ্য পরীক্ষা’ ও মুহূর্তেই কোটিপতি হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি ও অনলাইন জুয়ার আসর বসাত। প্রবাসীরা কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে এসব কার্ড কিনে প্রতারিত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতার করতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।