ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরের অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার চক্রান্ত গড়ে তোলার অভিযোগে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন লাওসের ৩৫ জন (মতান্তরে ৩৪ জন), পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ থেকে ২ জন এবং ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক। গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ জনের মধ্যে ২০ জন নারীও রয়েছেন।
পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকেরা কারও কাছেই পাসপোর্ট দেখাতে পারেননি। তাদের কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, একজন বাংলাদেশি ব্যক্তির জিম্মায় তাদের সব পাসপোর্ট রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বাংলাদেশিসহ চক্রের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সহযোগীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ভাড়া নিয়ে ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং জালিয়াতি চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালিত হওয়ায় চক্রটি বাংলাদেশে নিজেদের নতুন ঘাঁটি তৈরি করেছিল। খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একজন দুবাইপ্রবাসীর আটতলা ভবন ভাড়া নেন তারা। ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটকে সার্ভার, কম্পিউটারসহ অপরাধমূলক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। নিভৃত ও নজরদারিমুক্ত পরিবেশে ভুয়া ওয়েবসাইট খোলা, চাকরির প্রলোভন দেখানো এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাঁদের মূল কাজ।
অভিযান পরিচালনাকালে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থল থেকে আন্তর্জাতিক প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সরঞ্জাম জব্দ করে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—১৩৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, একটি অ্যাপল ট্যাব, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, মনিটর, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও ৪টি সিমকার্ড। এছাড়া ৩টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ১টি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়। এসব ডিভাইস পরীক্ষার জন্য ঢাকার একটি বিশেষজ্ঞ দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ‘৬৩ জনের কারও পাসপোর্ট আমরা পাইনি। একজন বাংলাদেশি তাঁদের পাসপোর্ট নিয়ে নিয়েছেন। তাকে আটক করা গেলে এই চক্রের পেছনে অন্য কার কার হাত আছে এবং কক্সবাজারসহ দেশের কোথাও তাঁদের অন্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত উন্মোচিত হবে।’
এদিকে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি ঘটনার সুগভীর তদন্তে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে সিএমপি।