রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
ছবি: প্রতীকী
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রাভেলস ব্যবসার কথা বলে ফরিদপুর থেকে ডেকে এনে এক পুরুষ ও নারীকে তিন দিন ধরে একটি কোচিং সেন্টারে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুক্তিপণ হিসেবে তাঁদের কাছে ২০ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট দাবি করা হয়েছিল। অবশেষে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ পাওয়া বার্তার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাঁদের উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাভেলস ব্যবসার লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের কথা বলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানার হাজিগঞ্জ এলাকার সেলিম মোল্লা (৩৮) এবং কোতোয়ালি থানার ভোজনডাঙ্গা এলাকার সুমাইয়া আক্তারকে (২০) কোটচাঁদপুরে আমন্ত্রণ জানান স্থানীয় মো. প্রিন্স হোসেন (৩২) ও মো. লিটন হোসেন (২৮)।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সেলিম ও সুমাইয়া কোটচাঁদপুরে এসে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের জিম্মি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবসার টাকা পাওনা ও লভ্যাংশের দোহাই দিয়ে সেলিমের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২০ লাখ টাকা ও মূল পাসপোর্ট হস্তান্তরের চাপ দেন প্রিন্স ও লিটন। এতে সম্মতি না দেওয়ায় বলুহর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘মাহবু মার্কেট’-এর তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি বন্ধ কোচিং সেন্টারের কক্ষে তাঁদের আটকে রাখা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অবরুদ্ধ কক্ষটি পাহারা ও ভুক্তভোগীদের ওপর নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন কাজী মোজাত্মেল হক (৪০) নামের এক ব্যক্তি। গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত কোনো ধরনের বাইরের যোগাযোগ ছাড়াই ওই কক্ষে তাঁদের জিম্মি করে রাখা হয়। মানসিক নির্যাতন ও নানামুখী হুমকির মুখে পড়ে একপর্যায়ে সুকৌশলে স্বজন বা পরিচিতদের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ সহায়তা চান ভুক্তভোগীরা।
৯৯৯ নম্বর থেকে বার্তা পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা-পুলিশের একটি দল রোববার ভোর ৫টার দিকে মাহবু মার্কেটে ঝটিকা অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে কোচিং সেন্টারের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখে পুলিশ। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আতঙ্কে দিন কাটানো সেলিম মোল্লা ও সুমাইয়া আক্তারকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
আইনি পদক্ষেপ কোটচাঁদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া দুজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নিরাপদে রয়েছেন। ব্যবসায়িক বিরোধের দোহাই দিয়ে কাউকে বেআইনিভাবে জিম্মি করে টাকা ও নথি দাবি করা গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।