বেনাপোল প্রতিনিধি
৩ি৭ নংম্বর শেড থেকে উদ্ধা হওয়া হওয়া পণ্য ছবি: ধ্রুব নিউজ
বেনাপোল স্থলবন্দরের কড়া নিরাপত্তা ও কাস্টমসের জিম্মা থেকে রহস্যজনকভাবে ‘হাওয়া’ হওয়া ১৯ প্যাকেজ মূল্যবান ভারতীয় পণ্য অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। তবে কোনো চোর চক্র এটি বাইরে পাচার করেনি, বরং বন্দর ও কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে পণ্যগুলো রাখা হয়েছিল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডের ভেতরেই! সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) বিকেলে পুরোনো নিলামযোগ্য মালামালের স্তূপের আড়াল থেকে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য উদ্ধার করা হয়। দিনের আলোতে সুরক্ষিত শেড থেকে পণ্য উধাও হওয়া এবং চার মাস পর আবার সেই শেডের ভেতরেই লুকিয়ে রাখা অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার এই ঘটনাটি বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভেতরের সিন্ডিকেটের জড়িত থাকাকে সরাসরি সামনে এনেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ঈদুল আজহার আগে বাজারে ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনীর ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সুযোগ নিতেই চক্রটি শেডের ভেতরের কাস্টমসের মূল জিম্মা থেকে প্যাকেজগুলো গোপনে সরিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু বন্দরে হঠাৎ নজরদারি ও কাস্টমসের কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় তারা পণ্যগুলো বন্দর এলাকার বাইরে পাচার করার সুযোগ পায়নি। ধরা পড়ার ভয়ে তারা প্যাকেজগুলো ওই শেডের ভেতরেই অন্য একটি পুরোনো নিলামের মালামালের স্তূপের নিচে চাপা দিয়ে রাখে। পরিকল্পনা ছিল, পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে বা সুযোগ বুঝে পরে কোনো এক সময় সেগুলো বাইরে বের করে নেওয়া হবে। সোমবার অন্য একটি চালানের ইনভেন্টরি করার সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা হঠাৎ এই লুকিয়ে রাখা প্যাকেটগুলোর সন্ধান পান।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ মার্চ। ভারত থেকে আসা একটি পণ্যচালান মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে জব্দ করে কাস্টমস। নথিতে পণ্যটি ‘বেকিং পাউডার’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও কায়িক পরীক্ষায় ১০৮টি প্যাকেজে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার এবং প্রসাধনী পাওয়া যায়। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা এই চালানের আমদানিকারক ছিল যশোরের প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের প্রতিষ্ঠান মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে তারা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি করে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার বিপুল রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করেছিল। জব্দ করার পর পণ্যগুলো সুরক্ষার জন্য বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়। এরপর গত ২ জুন কাস্টমস কর্মকর্তারা পুনরায় গণনা করতে গিয়ে দেখতে পান যে, ১০৮ প্যাকেজের মধ্যে ১৯টি মূল্যবান প্যাকেজ গায়েব। এ ঘটনায় তখন মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
সুরক্ষিত শেডের ভেতর থেকেই পণ্য উদ্ধার হওয়ার পর এখন বন্দরের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকেই সন্দেহের তির উঠছে। এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধার হওয়া ১৯ প্যাকেজ আগের জব্দ করা চালানেরই অংশ। এগুলো শেডের ভেতরে নিলাম পণ্যের মধ্যে চাপা পড়ে ছিল। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তদন্তে কারও অনিয়ম বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া পণ্য যাচাই শেষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।