নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুকে ‘ঘরে বসে বাড়তি আয়ের’ চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে পেতে রাখা হয়েছিল সাইবার অপরাধের ভয়ংকর এক জাল। আর সেই পাতা ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্ব খুইয়েছেন যশোরের এক কলেজছাত্রী। আইটি পার্কে চাকরি করা ওই তরুণীর সরলতার সুযোগ নিয়ে সুকৌশলে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি অজ্ঞাতনামা ডিজিটাল প্রতারক চক্র। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাইবার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী তরুণী যশোর কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি যশোর আইটি পার্কের একটি প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এই ডিজিটাল লুটেরার দল গত ২১ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি নামী অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের লোগো ব্যবহার করে ‘ঘরে বসে আয়’-সংক্রান্ত একটি প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। ওইদিন সকালে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বিজ্ঞাপনটি চোখে পড়ে ওই কলেজছাত্রীর। বাড়তি আয়ের আশায় তিনি সেখানে দেওয়া একটি লিংকে ক্লিক করামাত্রই চক্রটি তাকে নিজেদের জালে বন্দি করে ফেলে। প্রথমে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ এবং পরবর্তীতে আরও সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম অ্যাপে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে শুরু হয় ‘টাস্ক পূরণ করে’ দ্বিগুণ আয়ের ডিজিটাল ব্রেনওয়াশ।
অপরাধ চক্রটির সুনিপুণ প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে গত ৩ জুন সকালে ওই তরুণী তাদের দেওয়া একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) নম্বরে পর্যায়ক্রমে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৫ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরই আসল রূপ ধারণ করে সাইবার অপরাধীরা। চক্রটি নব্য কায়দায় ব্ল্যাকমেইল শুরু করে জানায়, ভুল অ্যামাউন্ট পাঠানোর অপরাধে তাকে আরও ৫৬ হাজার ৮১৩ টাকা ‘জরিমানা’ দিতে হবে, অন্যথায় আগের টাকা আটকে যাবে।
এই পর্যায়ে এসে নিজের ভুল বুঝতে পারেন আইটি কর্মী ওই কলেজছাত্রী। তিনি জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজের পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়ামাত্রই ওপাশ থেকে নেমে আসে অকথ্য গালিগালাজ ও ভয়ংকর সব হুমকি। একপর্যায়ে সবকটি নম্বর বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় অদৃশ্য হয়ে যায় প্রতারক চক্রটি। এরপর বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গতকাল সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানার দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যেসব নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সেগুলোর আইডেন্টিটি এবং অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।