নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন চিকিৎসক মো. রাফসানজানি ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে সাংবাদিক পরিচয়ে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক ও তার পরিবারকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং শ্যালিকাকে নিখোঁজ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. রাফসানজানি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. রাফসানজানি জানান, তিনি সম্প্রতি ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। গত ৮ মার্চ থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, 'স্বদেশ বিচিত্রা'র সাংবাদিক পরিচয়ধারী আসিফ আকবর সেতু ‘অভিযোগ আছে বলে চিকিৎসককে দেখা করতে বলেন। সেখানে 'যশোর জার্নাল' নামক একটি ফেসবুক পেজে তার শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ একটি কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন বলে জানানো হয় এবং সংবাদ ঠেকাতে সেতুর এক সহযোগী ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর গত ১২ মার্চ 'ডিবিসি নিউজ'-এর সাংবাদিক পরিচয়ধারী সাকিরুল কবীর রিটন তাকে দেখা করতে বলেন। ওইদিন রাতে যশোর মাইকপট্টি এলাকায় 'এশিয়ান টেলিভিশন'-এর সাংবাদিক পরিচয়ধারী শামীম-এর অফিসে ডা. রাফসানজানি ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। সেখানে তাকে ক্যামেরার সামনে বসিয়ে নিউজের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার 'প্যাকেজ' প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য ১০ লাখ এবং শ্যালিকাকে মামলা থেকে বিরত রাখতে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে চাকরিচ্যুতি ও মানহানির হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডা. রাফসানজানির শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। গত ১৫ মার্চ তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা যায়, সামিয়া মণিরামপুর গাজী সুপার মার্কেট এলাকায় রয়েছেন। অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা ওই মেয়েটিকে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দরকষাকষি করছে।
চক্রটি মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে বারবার টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে বলে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। মেসেজে উল্লেখ করা হয়, ‘কালকে মামলা ও নিউজ হবে। আপনাকে আর মিটানোর সুযোগ দেয়া হবে না। আপনার ক্যারিয়ার শেষ। আপনার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে ভুক্তভোগীকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
ডা. রাফসানজানি বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। কিন্তু এভাবে দফায় দফায় লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং একটি অসুস্থ মেয়েকে ব্যবহার করে পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া সাংবাদিকতার নীতি বহির্ভূত।’ তিনি এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও যশোর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. রাফসানজানির স্ত্রী সাজেদা আফরুজ, শ্বশুর সাজেদুর রহমান এবং শাশুড়ি সেলিনা বেগম।