Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

দুর্ধর্ষ ‘গোফরান’ সাম্রাজ্যে হানা

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ,২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
দুর্ধর্ষ ‘গোফরান’ সাম্রাজ্যে হানা

‘গোফরান বাহিনীর’ প্রধান নাসির শেখ ওরফে গোফরান সহযোগীসহ আটক ছবি: ধ্রুব নিউজ

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে খুলনার রূপসা থানার জাবুসা এলাকায় তখন ডিবি পুলিশের এক শ্বাসরুদ্ধকর অপারেশন। লক্ষ্য—যশোরের ত্রাস, বিশটিরও বেশি মামলার দুর্ধর্ষ আসামী এবং ‘গোফরান বাহিনীর’ প্রধান নাসির শেখ ওরফে গোফরান। পুলিশের জালে শেষ রক্ষা হলো না তার; সহযোগীকে নিয়ে ধরা পড়লেন এই চরমপন্থী নেতা। আর এর মাধ্যমেই অবসান ঘটল অভয়নগর ও আশপাশের জনপদে দীর্ঘদিনের এক আতঙ্কের নাম।

গল্পটা শুরু গত ১ মার্চের এক বিভীষিকাময় রাত থেকে। অভয়নগরের গোপিনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে হানা দেয় ১০-১২ জনের এক সশস্ত্র দল। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা দাবি করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শুরু হয় তাণ্ডব। নগদ টাকা থেকে শুরু করে শখের ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল আর ল্যাপটপ—সব লুট করে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যায় গোফরান বাহিনী।

 মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামেন ডিবির গোয়েন্দারা। তথ্য-প্রযুক্তির জাল বিছিয়ে তারা জানতে পারেন, এটি কোনো সাধারণ চোর-ডাকাতের কাজ নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে চরমপন্থী সংগঠন 'বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি'র সদস্য নাসির শেখ। বাহিনীর প্রধান হিসেবে সে যশোর ও খুলনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাঁদাবাজির এক নিজস্ব সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

আজ সোমবার দুপুরে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান সেই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের কথা। তিনি বলেন, খুলনার জাবুসা এলাকায় আত্মগোপন করে থাকা নাসির শেখ ও তার সহযোগী সোহেল রানাকে পাকড়াও করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে লুণ্ঠিত সেই দামি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ।

গোফরানের অপরাধের খাতা উল্টে পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তা যে কাউকে চমকে দেবে। নাসির শেখের বিরুদ্ধে ১১টি চাঁদাবাজি, ৭টি অস্ত্র মামলা এবং ২টি হত্যা মামলাসহ মোট ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। কেবল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্টই আছে ১১টি। তার সহযোগী সোহেল রানার বিরুদ্ধেও রয়েছে ৭টি মামলা। দীর্ঘদিন ধরে যশোর ও খুলনার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা এই বাহিনীর হাতে জিম্মি ছিল।

এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে যশোর ও খুলনার সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছে পুলিশ। তবে গোফরান বাহিনীর বাকি সদস্যদের শিকড় উপড়ে ফেলতে ডিবির অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)