নিজস্ব প্রতিবেদক
উদ্ধারের পর জাহাঙ্গীর আলম ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে চাঞ্চল্যকর ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনার নেপথ্যে বেরিয়ে এলো এক নাটকীয় তথ্য । পশু-পাখির ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম মূলত পাওনাদারের বিপুল টাকার চাপ সইতে না পেরে নিজেকে আড়াল করতে এই ‘অপহরণ নাটক’ সাজিয়েছিলেন।
সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম নিজে আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মূলত ৪৫ লাখ টাকার দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শংকরপুর পশু হাসপাতালের সামনে ওষুধের দোকানদার এবং সুজলপুর ১ নম্বর পাড়ার ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম গত ২ মার্চ রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই স্ত্রী রেশমা খাতুনের কাছে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এই ঘটনায় রেশমা খাতুন কোতোয়ালি থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন এবং সংবাদ সম্মেলনও করেন।
নিখোঁজের ৯ দিন পর গত ১১ মার্চ রাতে র্যাব সদস্যরা চৌগাছা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে বাঁধা অবস্থায় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পরদিনই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে অপহরণের অভিযোগটি সাজানো বলে প্রতীয়মান হয়।
অভয়নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী গোফরান বাহিনী প্রধানকে আটকের বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্যটি সামনে আসায় শহরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।