শেখ জালাল
"শোনেন ভাইরে শোনেন দিদি, ভোট দেওয়া যে মস্ত বড় দায়িত্বের এক বিধি..."— যশোরের আঞ্চলিক সুরের এই দরদী গান যখন 'রওশন আলী মঞ্চ' থেকে ভেসে আসছিল, তখন উপস্থিত কয়েকশ মানুষের চোখেমুখে ছিল এক অন্যরকম দীপ্তি। আসন্ন গণভোট ও ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন করতে যশোর জেলা তথ্য অফিস সোমবার বিকেলে আয়োজন করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। যশোরের ঐতিহাসিক মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে (টাউন হল মাঠ) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সুর আর বাণীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় নির্বাচনের গুরুত্ব ও নাগরিক দায়িত্বের বার্তা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গতানুগতিক প্রচারণার চেয়ে সংস্কৃতি যখন বার্তার বাহক হয়, তখন তা মানুষের হৃদয়ে দ্রুত পৌঁছায়। জেলা তথ্য অফিসের এই সৃজনশীল ভাবনার মূল উদ্দেশ্য ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ ভোটারদের কাছে নির্বাচনী আচরণবিধি এবং তাদের অধিকারের কথা তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল যশোরের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'ব্যঞ্জন থিয়েটার'। সংগঠনের সভাপতি আনিসুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে শিল্পীরা কেবল গান নয়, বরং লোকজ অভিনয়ের মাধ্যমে একজন সচেতন ভোটারের করণীয়গুলো ফুটিয়ে তোলেন। আঞ্চলিক সুর ও মনোমুগ্ধকর নৃত্যের মেলবন্ধনে টাউন হল মাঠের দর্শকরা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন খুলনা বেতারের আমন্ত্রিত শিল্পীরাও।
ব্যঞ্জন থিয়েটারের এই শৈল্পিক উপস্থাপনায় নির্বাচনের কঠিন নিয়মকানুনগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল হয়ে ওঠে। লোকজ সুরের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের যাওয়ার উৎসাহ এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝানো হয়। মাঠে উপস্থিত সাধারণ ভোটাররা জেলা তথ্য অফিসের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের মতে, সাধারণ মাইকিং বা লিফলেটের চেয়ে এ ধরনের গানের অনুষ্ঠান অনেক বেশি হৃদয়গ্রাহী এবং সহজে বোধগম্য। তারা সহজেই বুঝতে পেরেছেন যে, ভোট প্রদান কেবল একটি অধিকার নয়, বরং রাষ্ট্র গঠনে তাদের এক বড় দায়িত্ব।
পুরো আয়োজনটির সফল বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক এলিন সাঈদ-উর রহমান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক গ্রামের কাগজের উপস্থাপিকা প্রত্যাশা আক্তার নিশা। রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার প্রতিটি সুরের ঝঙ্কার যেন যশোরবাসীকে মনে করিয়ে দিয়ে গেল—আগামী নির্বাচন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এক অনন্য উৎসব। জেলা তথ্য অফিসের এই সৃজনশীল উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।