ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের ঝিকরগাছায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের লিজ নেওয়া জমির ১৮৬টি ফলন্ত পেঁপে গাছ কেটে সাবার করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বেনেয়ালী মাঠে।
ভুক্তভোগী কৃষক নিজাম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, সোমবার দিবাগত রাতে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা বেনেয়ালী মাঠে তার লিজ নেওয়া প্রায় ১৫ কাঠা জমিতে রোপণ করা পেঁপে গাছগুলো কেটে ফেলে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জমিতে পরিচর্যা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, খেতের প্রায় ৩০০টি পেঁপে গাছের মধ্যে ১৮৬টি গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
নিজাম উদ্দিন পাটোয়ারী গদখালী ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বজলুর হক পাটোয়ারীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। লাভের আশায় জমি লিজ নিয়ে তিনি এই পেঁপে চাষ শুরু করেছিলেন। গাছে সবেমাত্র ফলন আসতে শুরু করেছিল, ঠিক এই সময়ে শত্রুতা করে গাছগুলো কেটে দেওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজাম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, "অনেক আশা নিয়ে জমিটি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ করেছিলাম। প্রায় ৩০০টি গাছের মধ্যে ১৮৬টি গাছ কেটে দিয়েছে। এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে খেত পরিদর্শনে যান ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম সাইফুল্লাহ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম। তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগী কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে খেতটি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ১৮৬টি পেঁপে গাছ কেটে দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে কৃষক প্রচণ্ড আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম সাইফুল্লাহ বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। একজন কৃষক তাঁর ঘাম ঝরানো পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করে ফসল উৎপাদন করেন। এভাবে ফসল নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, রাতের আঁধারে কৃষকের এমন ফসল নষ্টের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।