নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকাসক্ত ছেলের অব্যাহত মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক ভুক্তভোগী মা। টাকা চুরি, বসতবাড়িতে ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নিজের পেটের সন্তানের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অভিযোগটি আমলে নিয়ে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযুক্ত আসামির প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী যশোর শহরের কোতোয়ালী থানার পূর্ব বারান্দীপাড়া ২ নম্বর কলোনির বাসিন্দা রহিমা বেগম। মামলায় তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে আওয়ালকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে আওয়াল তীব্রভাবে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই মা-বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। স্বজন ও স্থানীয়রা একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারেননি।
সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নেশার টাকা না পেয়ে ঘর থেকে শিল-নোড়া এনে মায়ের ডান হাঁটুতে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে সে। এ সময় স্ত্রী রহিমা বেগমকে রক্ষা করতে তাঁর স্বামী এগিয়ে এলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে আওয়াল।
হামলার একপর্যায়ে সে ঘরের শোকেস ভেঙে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং চার আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে জানালে মা-বাবাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি নিয়মিত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘরে এসে ভাঙচুর চালায় এবং নেশার টাকার জন্য নিজ বাড়িসহ আশপাশের প্রতিবেশীদের বাসা থেকে চুরি করে। এতে করে অতিষ্ঠ মা-বাবাকে বহুবার প্রতিবেশীদের ক্ষতিপূরণও গুনতে হয়েছে। অবশেষে বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এই মা।