নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতির একটি মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দিয়েছেন দুদকের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী গাজী। যশোরের চৌগাছা উপজেলায় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৮ মেট্রিক টন গম আত্মসাৎ ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় সোমবার তিনি সাক্ষ্য প্রদান করেন। যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলামের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০১-০২ অর্থবছরে চৌগাছা উপজেলায় পুকুর পুনর্খনন প্রকল্পের জন্য ১৮ হাজার মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্যসহ মোট পাঁচজন যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দেখান। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ২০০৪ সালের ৩১ মে দুদকের তৎকালীন পরিদর্শক এস এম শামীম ইকবাল বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—মাশিলা গ্রামের রবিউল ইসলাম, তিলেকপুর গ্রামের লাল মিয়া, মশিলা গ্রামের নিলুফার ইয়াসমিন, গদাধরপুর গ্রামের আবুল কালাম ও তেঘরী গ্রামের আলতাফ হোসেন। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী আদালতে চার্জশিট জমা দেন। মামলাটি পরবর্তীতে বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয় এবং এর আগে ছয়জন সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী গাজী বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় তার মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। আদালতের সমন পেয়ে তিনি পিপির সাথে যোগাযোগ করে ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সোমবার বিচারক ভার্চুয়ালি তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।