নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
নিজের শেষ সম্বল পৈতৃক সম্পত্তি আর স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটাবাড়ি বিক্রি করে সব অর্থ তুলে দিয়েছিলেন পরম স্নেহে বড় করা ছেলের হাতে। আশা ছিল, জীবনের শেষ বেলাটুকু ছেলে আর পুত্রবধূর সংসারে শান্তিতে কেটে যাবে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, সেই টাকার জোরে ছেলে ও পুত্রবধূ আজ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও, ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ও তাঁর প্রতিবন্ধী বোনের কপালে জুটেছে কেবলই অবহেলা, মারধর আর ঘরছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নিজের জন্মদাতা ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক অভাগী মা। গতকাল সোমবার যশোরের সদরের গোয়ালদহ গ্রামের মৃত আদম আলীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে এই মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন রোকেয়া বেগমের ছেলে মনিরুজ্জামান সুমন ও পুত্রবধূ সারজিনা খাতুন। তারা বর্তমানে যশোর শহরতলীর আরবপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রোকেয়া বেগম তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি এবং স্বামীর ভিটাবাড়ি বিক্রি করে পাওয়া সমস্ত অর্থ ছেলের ব্যবসার উন্নতির জন্য তুলে দেন। মায়ের দেওয়া ওই অর্থের সহায়তায় মনিরুজ্জামান সুমন ও তার স্ত্রী আরবপুর এলাকায় ইট, বালু ও খোয়ার ব্যবসা শুরু করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। কিন্তু সুদিন ফিরতেই পাল্টে যায় ছেলের রূপ। পরবর্তীতে তারা ওই বৃদ্ধা মা ও তাঁর প্রতিবন্ধী বোনকে নিজেদের বাসায় আশ্রয় দিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানান এবং কোনো ধরনের ভরণ-পোষণ দিতেও অস্বীকার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিজের ন্যায্য অধিকার ও ভরণ-পোষণ দাবি করায় উল্টো রোকেয়া বেগমকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর ফলে গত ৭ই মে তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় বাপের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এরপর গত ১০ই জুন বিকেলে রোকেয়া বেগম ও তাঁর মেয়ে পুনরায় ছেলের বাসায় গেলে তাদের আবারও নির্মমভাবে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সবশেষে গত ১২ই জুন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে আসামিদের বাদীর বাপের বাড়িতে ডাকা হলেও, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে মাকে কোনো ভরণ-পোষণ তারা দেবে না এবং সেখান থেকে চলে যায়। সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মীমাংসার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, শেষ বয়সে এসে কোলের সন্তান ও পুত্রবধূর বিচার চেয়ে অশ্রুভেজা চোখে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন এই বৃদ্ধা মা।