বেনাপোল প্রতিনিধি
ছবি: আইনজীবি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতার চেষ্টা
যশোরের শার্শায় কোন মামলা বা অভিযোগ ছাড়া আইনজীবী মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতার চেষ্টা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীর বাধার মুখে এ যাত্রা রক্ষা হয় । তবে পুলিশের অভিযোগ একটি মামলার আসামী হওয়ায় তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলাকালে তার লোকজন গ্রেফতারে বাধা দেয়।
মোস্তফা কামাল মিন্টু আইন পেশার পাশাপাশি শার্শা উপজেলায় বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকাল ৫ টায় শার্শার শ্যামলাগাছি গেটে এ ঘটনা ঘটে।
আইনজীবী মিন্টু জানান, গত ২৯ মে শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে মামুন হাসান জুয়েলসহ কয়েকজনকে পূর্ব শত্রুতার কারণে কয়েকজন মারধোর করেন। এঘটনায় ঐ দিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি দায়ের করা হয়। তবে জিডিতে আমার নাম উল্লেখ না থাকলেও ৪ জুন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও শার্শা থানা পুলিশ আমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে এলাকার মানুষ ছুটে আসলে জনরোশে পড়ে পুলিশ । এসময় তিনি শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত হয়। তিনি জুয়েলের মারধরের সাথে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন না। সামনে উপজেলা নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী এছাড়া আইনজীবী পেশার কারণে অনেকেই শত্রুতা করছে। সেসব কারণে প্রতিপক্ষরা আমাকে বিতর্কে ফেলতে এ ধরণের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কোন অভিযুক্ত না হয়েও কোন ধরনের গ্রেফতারী পরওয়ানা ছাড়ায় শত্রুপক্ষের মদদে পুলিশ ধরতে এসেছিল। এছাড়া তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেছেন শার্শা থানায় তার নামে কোন মামলা দায়ের হয়নি।
বিষয়টি জেলা বিএনপি নেতাদের অবগত করা হয়েছে। জুয়েলের প্রতিবেশি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, মামুন হাসান জুয়েল বিগত সরকারের সময়ে প্রভাব বিস্তার করে গ্রামের অনেককে মারধোর,লাঞ্ছিত ও মিথ্যা মামলায় সহযোগীতার হাত রয়েছে। সে ঈদ ছুটিতে বাড়িতে আসলে ঐসব মানুষের সাথে তর্কে জড়িয়ে এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ মানুষেরা তাকে মারধর করে ।
জুয়েলের স্বজন কন্যাদাহ গ্রামের আব্দুল বারিক জানান, বালি ব্যবসা নিয়ে এই মারধোরের ঘটনা ঘটেছে। ঐ ঘটনায় তিনিও আহত হয়েছেন। তবে জিডিতে তিনি আইনজীবী মিন্টুর নাম উল্লেখ করেননি।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ইতিমধ্যে একটা তদন্ত কমিটি করে সত্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে। যে কোনো অপরাধ মূলক কাজের বিরুদ্ধে আমাদের দল এখন জিরো টলারেন্স ভূমিকায়। যদি এখানে কারো বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মেলে তবে দল তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
যশোর নাভারণ সার্কেল এএসপি আরিফ হোসেন জানান, মারধরের শিকার মামুন হাসান জুয়েল একজন পুলিশ সদস্য। ছুটিতে সে বাড়িতে আসলে পূর্ব শত্রুতায় তাকে ও তার স্বজনদের মারধর করে কয়েকজন। এঘটনায় মোস্তফা কামাল মিন্টু প্রধান আসামী। তাকে গ্রেফতার করতে গেলে তার লোকজন বাধা দেয়।