ছবি: সংগৃহীত
চোটের অভিশাপ যেন নেইমারের নিত্যদিনের সঙ্গী। ব্রাজিলিয়ান কাপে পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও ইনজুরিতে পড়েছেন সান্তোসের এই তারকা ফরোয়ার্ড। উরুর তীব্র ব্যথায় খেলার প্রথমার্ধ শেষেই কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। সান্তোসের দুর্দশা সেখানেই থামেনি; একই ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন দলের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়—উইঙ্গার আলভারো বারিয়াল এবং ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো।
ম্যাচ শেষে নিজের এই চোটের পেছনে স্টেডিয়ামের বাজে অবস্থাকেই দায়ী করেছেন নেইমার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝেরে তিনি জানান, ম্যাচের ঠিক আগের দিন সংস্কারকাজ করার কারণে ভিলা বেলমিরোর মাঠের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। নেইমারের মতে, তাঁদের শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গেই নয়, লড়াই করতে হয়েছে বাজে টার্ফের বিরুদ্ধেও। দৌড়ানো কিংবা হঠাৎ থেমে যাওয়ার সময় অমসৃণ মাঠের কারণে বাড়তি শক্তি খরচ করতে হচ্ছিল, যা এক প্রথমার্ধেই তিন ফুটবলারের ইনজুরির মূল কারণ বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নেইমারের এই অভিযোগকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেয়নি পালমেইরাস। উল্টো নিজেদের হোম গ্রাউন্ডের নিখুঁত ঘাস ও পরিচর্যার প্রশংসা করে সান্তোসকে খোঁচা দিয়েছে ক্লাবটি। এক বার্তায় পালমেইরাস দাবি করে, মানসম্মত ও সমতল মাঠ চোটের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। গত পাঁচ বছরে ব্রাজিলিয়ান সেরি আ-তে তাদের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে কম চোটে পড়ার রেকর্ডটি তার বড় প্রমাণ। সান্তোস ও নেইমারকে উদ্দেশ করে তারা লেখে, ‘বাজে স্টেডিয়ামের সহজ সমাধান হলো একটি ভালো স্টেডিয়াম বানিয়ে নেওয়া!’
মাঠের লড়াইয়ে সান্তোসের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ব্রাজিলিয়ান কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পালমেইরাস। অন্যদিকে একের পর এক খেলোয়াড় হারিয়ে বড় বিপদে পড়েছে সান্তোস। মেডিকেল পরীক্ষার পর নেইমারের চোটের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে, তবে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।