ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সরগরম হয়ে উঠেছে দলবদলের বাজার। পরশু শেষ হওয়া খেলোয়াড় নিবন্ধনের হিসাব বলছে, এবারও বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর চোখ বিদেশি ফুটবলারদের দিকেই। তবে এবার সব মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাফের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ফুটবলাররা, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা হিমালয়কন্যা নেপালের ফুটবলারদের।
এবারের মৌসুমে সাধারণ বিদেশি কোটা ও দক্ষিণ এশীয় সাফ কোটা মিলিয়ে অর্ধশ শতকেরও বেশি ভিনদেশি ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে সাফ কোটায়। এই কোটায় নিবন্ধিত প্রায় দুই ডজন ফুটবলারের সিংহভাগই এসেছেন নেপাল থেকে।
গত মৌসুম থেকে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলারদের ঘরোয়া ফুটবলে ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে খেলানোর সুযোগ তৈরি হয়। প্রথমে এই কোটায় প্রতিটি দল সর্বোচ্চ পাঁচজন ফুটবলার নিতে পারলেও দেশীয় ফুটবলারদের আপত্তির মুখে এবার সেই সংখ্যা তিনে নামিয়ে আনা হয়। তবে কোটা কমলেও মাঠ মাতাতে আসা দক্ষিণ এশীয় ফুটবলারদের সংখ্যা গতবারের তুলনায় দৃশ্যমানভাবেই বেড়েছে।
এবারের লিগে দলের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বিদেশি নির্ভরতাও। লিগের অর্ধেকেরও বেশি ক্লাব এবার সাফ কোটার সুযোগ লুফে নিয়েছে। সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের তাবুতে। গত মৌসুমে কোনো আঞ্চলিক ফুটবলার না নিলেও এবার তারা নেপাল জাতীয় দলের তিন অভিজ্ঞ মুখ—অঞ্জন বিস্তা, মানিশ দাঙ্গি ও রক্ষণভাগের ফুটবলার রহিত চাঁদকে দলে ভিড়িয়েছে। তাদের পাশাপাশি ব্রাজিলের পুরোনো তারকা রবসন রবিনহোকে ফিরিয়ে আনা ও নাইজেরীয় ফরোয়ার্ডদের অন্তর্ভুক্তিতে আরও শক্তিশালী হয়েছে চ্যাম্পিয়নদের ডেরা।
ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অবশ্য সাফ কোটায় হাঁটার ঝুঁকি নেয়নি। তারা বরাবরের মতো ভরসা রেখেছে তাদের মালিয়ান স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে এবং নাইজেরিয়া ও উজবেকিস্তানের নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের ওপর।
অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনী শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের জাতীয় দলের এক মিডফিল্ডারকে দলে ভিড়িয়ে আলোচনায় এসেছে। তবে তাদের মূল শক্তিতে ভরসা জোগাচ্ছেন চার নাইজেরীয় ফুটবলার, যাঁদের অন্যতম আকর্ষণ ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা তারকা মাইকেল বাবাতুন্দে।
ফর্টিস এফসি, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, রহমতগঞ্জ ও নবাগত চট্টগ্রাম সিটি ক্লাব নেপালি ফুটবলারদের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে। ফর্টিসে যেমন নেপালের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ও ডিফেন্ডার যোগ দিয়েছেন, তেমনই কাঠমান্ডুর তারকাদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের গোলকিপার সুজন পেরেইরাকেও ধরে রেখেছে তারা। ব্রাদার্স ইউনিয়ন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে দলে রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান ও নেপালের তরুণদের নিয়ে দল গুছিয়েছে।
হঠাৎ করেই দেশীয় ক্লাবগুলোর নেপালি ফুটবলারদের প্রতি এই ঝোঁকের পেছনের রহস্য উন্মোচন করেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি। তিনি জানান, মানসম্পন্ন হওয়ার পরও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে নেপালি ফুটবলারদের পাচ্ছে বাংলাদেশের ক্লাবগুলো। অন্যদিকে নিজেদের দেশের ফুটবলের চেয়ে বাংলাদেশে পারিশ্রমিক অনেক বেশি হওয়ায় নেপালের খেলোয়াড়রাও পরম আগ্রহে এখানকার লিগে খেলতে চলে আসছেন।
শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, ফুটপ্রেমীদের জন্য এবার আরও কিছু নতুন ও অচেনা দেশের ফুটবলারদের খেলা দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড এমনকি জার্মানির ফুটবলাররাও এবার বাংলাদেশের সবুজ গালিচায় বুটের চাপ বসাতে প্রস্তুত হচ্ছেন।