ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে সফরকারীদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭ রান। টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনে বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিজাদুতে ধরাশায়ী হয়ে চালকের আসন থেকে ছিটকে গেছে অজিরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই চালকের আসনে বসেছিল বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদের তোপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত শতকের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল অর্ধশতকে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা।
রোববার ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। তবে সকালের সেশনেই স্পিন ভেলকি দেখান মিরাজ। দারুণ এক ডেলিভারিতে ৩০ রান করা অ্যালেক্স কেয়ারিকে কট বিহাইন্ড করে ভেঙে দেন অজিদের গড়ে তোলা প্রতিরোধ। এরপর বাউ ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত এক অফস্পিনে বোল্ড করে স্টাম্প উ উড়িয়ে দেন তিনি। থিতু হওয়ার চেষ্টা করা অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও শর্ট লেগে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার।
একপ্রান্তে উইকেট পতন চললেও অন্যপ্রান্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ক্যামেরন গ্রিন। অষ্টম উইকেটে মিচেল স্টার্কের সঙ্গে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ইনিংসে লিড এনে দেন তিনি। মধ্যাহ্ন বিরতির পরপরই তাসকিন আহমেদের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁইয়ে স্টার্ক (১৮) আউট হলে ভাঙেন এই জুটি।
সঙ্গীদের বিদায়ের মাঝেও দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে ১৯২ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান গ্রিন। তবে সেঞ্চুরির পরই বোলিংয়ে ফিরে তাকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন হাসান মাহমুদ। ম্যাচে হাসান পান তার নবম উইকেট। এরপর নাথান লায়নকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৫তম ৫ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি অজিদের ইনিংস ২৮৪ রানে থামিয়ে দেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে তার শিকার ৬৬ রানে ৬ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক রূপকথা রচনা করতে এখন বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৫৭ রান।