ধ্রুব ডেস্ক
যশোর শহরের ব্রাদার টিটোস হোম স্কুল প্রাঙ্গণে জমে উঠেছিল ‘বিটিএইচ পাঞ্জা লড়াই ২০২৬’। ছবি: ধ্রুব নিউজ
শ্রাবণের বিকেলেও গুমোট গরম, তার ওপর লালদিঘি পাড়ে চলছে তীব্র উত্তেজনা। টানটান শক্তিতে মুখোমুখি দুজন, চোখে চোখ রেখে চলছে কব্জির আসল পরীক্ষা! প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করতে কেউ উজাড় করে দিচ্ছেন সবটুকু বাহুবল, তো কেউ আবার সুযোগ বুঝে নিচ্ছেন নিখুঁত কৌশলের আশ্রয়। এমনই এক রূপকথার মতো উৎসবমুখর আর রোমাঞ্চকর পরিবেশে যশোর শহরের ব্রাদার টিটোস হোম স্কুল প্রাঙ্গণে জমে উঠেছিল ‘বিটিএইচ পাঞ্জা লড়াই ২০২৬’।
আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গাটি ছিল এর ব্যতিক্রমী পুরস্কার তালিকা! প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি জীবন্ত মোরগ, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল এক ঝুড়ি টাটকা ডিম এবং তৃতীয় পুরস্কারের ঘরে ছিল দুটি সুস্বাদু আনারস। পুরস্কারের ভিন্নতা আর আনন্দঘন উল্লাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো বিটিএইচ প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক স্মরণীয় মিলনমেলায়।
শনিবার স্কুলের বার্ষিক আয়োজনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকেরা—বাবা ও মায়েরা। মোট ছয়টি আলাদা ক্যাটাগরিতে প্রায় দুইশত প্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হন শক্তির এই মজার লড়াইয়ে।
প্রতিযোগিতায় ছিল মোট ছয়টি ভাগ—নার্সারি, কেজি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং অভিভাবকদের বাবা ও মায়ের পৃথক বিভাগ। ক্ষুদেদের নিখাদ আনন্দ আর অভিভাবকদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিটি ক্যাটাগরিই জমে উঠেছিল দেখার মতো।
নার্সারি ক্যাটাগরিতে সব প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাইমুন। এই বিভাগে প্রথম রানার-আপ হয়েছে আহিল এবং দ্বিতীয় রানার-আপের সম্মান অর্জন করেছে রাফা।
কেজি শ্রেণিতে দারুণ দক্ষতা দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জিসান। সমকক্ষদের হারিয়ে প্রথম রানার-আপ হয়েছে জারিফ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে অরিত্রি।
প্রথম শ্রেণির তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন খেতাব জিতে নিয়েছে রাইয়ান। কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর প্রথম রানার-আপ হয়েছে রিসলিয়া এবং দ্বিতীয় রানার-আপের স্থান পেয়েছে আমির।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে কব্জির জোর আর কৌশলে সেরা হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাওহিদুর। এই বিভাগে প্রথম রানার-আপ হয়েছে আসফিয়া এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে খালিদ।
শিশুদের পাশাপাশি কম যাননি অভিভাবকরাও। মাদের ক্যাটাগরিতে অসামান্য নৈপুণ্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন অভিভাবক সুমাইয়া। তীব্র প্রতিযোগিতার পর এই বিভাগে প্রথম রানার-আপ হয়েছেন অভিভাবক খুশনুদা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন অভিভাবক বর্ষা।
অন্যদিকে, বাবাদের বিভাগে শক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর রেখে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন অভিভাবক মেরিনুজ্জামান এবং স্বমহিমায় প্রথম রানার-আপের সম্মান অর্জন করেছেন অভিভাবক খাইরুল।
সম্পূর্ণ পাঞ্জা লড়াই প্রতিযোগিতাটি অত্যন্ত দক্ষতা ও উদ্দীপনার সঙ্গে পরিচালনা করেন ব্রাদার টিটোস হোম স্কুলের অধ্যক্ষ আলী আজম টিটো।
প্রতিযোগিতার খেলা শেষে বিটিএইচের শিক্ষকবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন।