ক্রীড়া ডেস্ক
এব্রিমা তুনকারা ছবি: এফসি বার্সেলোনা
লামিন ইয়ামালের রূপকথা দিয়ে বার্সেলোনায় যে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল, সেই গল্পের পরিধি বোধহয় এবার আরও বড় হতে যাচ্ছে। লা মাসিয়ার প্রডিজিদের তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে নতুন এক অধ্যায়। আর সেই গল্পের মূল চরিত্রে ১৬ বছরের উদীয়মান তারকা—এব্রিমা তুনকারা। হান্স ফ্লিকের প্রি-সিজন স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া সবচেয়ে কমবয়সী এই ফুটবলারকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
গাম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া তুনকারার শৈশব কেটেছে স্পেনে, পরিবারের সাথেই সেখানে থিতু হন তিনি। চমৎকার শারীরিক গঠন এবং সহজাত প্রতিভার জোড়ে ২০২১ সালে, মাত্র ১১ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত অ্যাকাডেমি 'লা মাসিয়া'-তে জায়গা করে নেন এই বিস্ময় বালক। শারীরিক দিক থেকে বয়সের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে থাকায় অ্যাকাডেমিতে সব সময়ই নিজের চেয়ে বড় বয়সের খেলোয়াড়দের সাথে মাঠে নেমেছেন তিনি, এবং তাদেরও টেক্কা দিয়ে প্রতিবার নিজের জাত চিনিয়েছেন।
সম্প্রতি বার্মিংহামের বিপক্ষে ম্যাচে বার্সার নতুন কোচ হান্স ফ্লিকের অধীনে একাদশে সুযোগ পান তুনকারা। আর প্রথম সুযোগেই পুরো ম্যাচে দলের 'প্রেস এস্কেপ' বা প্রতিপক্ষের হাই-প্রেসিং ভাঙার প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে পিঠে রেখে নিখুঁতভাবে বল রিসিভ করা, এক নিমেষে মার্কারকে স্পিন করে বের হয়ে যাওয়া কিংবা ফাঁকা জায়গা পেয়েই দ্রুত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়া—গতি ও বল কন্ট্রোলের এমন দুর্দান্ত মিশ্রণ সচরাচর এত কম বয়সে দেখা যায় না।
তুনকারার এই ধারাবাহিকতা কিন্তু হুট করে আসা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। দুই মাস আগেই উয়েফা ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল কন্ট্রিবিউটর ছিলেন তিনি। এর পরপরই ফার্স্ট টিমের জার্সিতে এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচে পেয়ে যান নিজের প্রথম গোলটি। আর সবশেষ প্রথমার্ধ জুড়ে মাঠে তার ক্ষুরধার পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বার্সার ডাগআউটে আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের উদয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ইয়ামালের হাত ধরে শুরু হওয়া গল্পে এবার তুনকারা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন কি না, তা দেখতে মুখিয়ে থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।