Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল, আর্জেন্টিনার গোল কেন নয়

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুলাই,২০২৬, ০৫:৪৫ এ এম
মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল, আর্জেন্টিনার গোল কেন নয়

মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে মিসর। দলটির কোচ হোসাম হাসানের দাবি ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে, আবার আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি।

হয়তো আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই মিসরের সঙ্গে এ অন্যায় করা হয়েছে, এমন মন্তব্যও করেছেন মিসর কোচ। রেফারিকে ‘জালিম’ আখ্যা দিয়েছেন ফরোয়ার্ড জিকো।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। সেখানে সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস খুঁজে দেখেছেন কেন মিসরের গোল বাতিল করা হয়েছিল, কেন আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখা হয়েছে। দিয়েছেন নিজের ব্যাখ্যাও।

ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এক যুগের বেশি সময় রেফারিং করা এবং ভিএআর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা ডেভিসের সেই বিশ্লেষণের অনুবাদ তুলে ধরা হলো।

মিসরের গোল কেন বাতিল হয়েছিল
কী হয়েছিল

৬২তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা একটি গোল করেছেন বলে মনে হচ্ছিল। সেই গোলে মিসর ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও যায়। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফাউল করেছিলেন।

ভিএআরের সিদ্ধান্ত

ভিএআর পর্যালোচনা

ভিএআরের মতে, আত্তিয়া একই সময়ে মার্তিনেজের জার্সি ধরে টানেন এবং তাঁর পায়ের ওপর পা রাখেন। এই দুটি ঘটনাই ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিডিও দেখার পর ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সঙ্গে একমত হন এবং গোল বাতিল করেন।

ডেভিসের রায়

ভিএআরের হস্তক্ষেপ সঠিক ছিল। গোল বাতিলের সিদ্ধান্তও সঠিক।

আত্তিয়ার স্পষ্ট ফাউলের কারণে আর্জেন্টিনা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায়। সেই ফাউলের সরাসরি ফল হিসেবেই মিসর গোলটি করেছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

ঘটনাটি বক্সের বেশ বাইরে মিসরের অর্ধে ঘটেছিল বলে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু একই আক্রমণপর্বে যদি কোনো ফাউলের সরাসরি পরিণতিতে গোল হয়, তাহলে সেই গোল বাতিল করতে হয়। রেফারিকে যখন একসঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা রাখার দৃশ্য দেখানো হয়, তখন তাঁর পক্ষে আগের সিদ্ধান্ত (গোল) বহাল রাখা সম্ভব ছিল না।

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে কেন ফাউল ধরা হয়নি
ম্যাচের শেষ দিকে মিসর দুটি আলাদা ঘটনায় ফাউলের আবেদন জানায়। এর একটি ঘটে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে। দুটি ঘটনাই আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ঘটে।

কী হয়েছিল

প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। এরপর ফাতি মাটিতে পড়ে যান। তবে রেফারি কোনো ফাউল দেননি।

আরেক ঘটনায়, ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢোকার সময় হুলিয়ান আলভারেস তাকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল না।

ভিএআরের সিদ্ধান্ত

ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

ভিএআর পর্যালোচনা

ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির জন্য ম্যাচটি বেশ কঠিন ছিল। বিশেষ করে ম্যাক আলিস্টারের ঘটনাটি মাঠের যে জায়গায় ঘটেছিল, তার ফলে এক অদ্ভুত ‘দ্বিমুখী পরিস্থিতির’ তৈরি হয়। সেখানে রেফারি কোনো সিদ্ধান্ত বদলালে তার প্রভাব একসঙ্গে দুটি ক্ষেত্রে পড়ত।

প্রথমত, আর্জেন্টিনার গোলটি বাতিল হতে পারত, দ্বিতীয়ত, ঠিক তার আগের মুহূর্তেই মাঠের অপর প্রান্তে ফাউল হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ দল একটি পেনাল্টি পেয়ে যেতে পারত। কারণ, দুটি ঘটনাই খেলার একই পর্যায় বা সিকোয়েন্সের মধ্যে ঘটেছিল।

তবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের (এ ক্ষেত্রে ম্যাক আলিস্টার ও আলভারেজ) আচরণ ও খেলার ধরন বিশ্লেষণ করে ভিএআর নিশ্চিত হয় যে, কোনো সিদ্ধান্তেই হস্তক্ষেপ করার মতো বড় কোনো ভুল হয়নি। তাই তারা দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে রেফারির আগের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন।

দুই ফাউলে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন
অনেকে শেষের ঘটনাটির সঙ্গে মিসরের বাতিল হওয়া গোলের আগে আত্তিয়ার ফাউলের তুলনা করতে পারেন। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

প্রথম ঘটনায় একজন ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। কিন্তু সালাহর ঘটনায় দুজনের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা দুই খেলোয়াড়ের গতির ফল। তাই দুটি ঘটনা এক নয়।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)