ক্রীড়া ডেস্ক
জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি কে নিয়ে উল্লাস করেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা ছবি: সংগৃহীত
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব সিক্সটিনের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের একপর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্সে জয় ছিনিয়ে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল তিনটি করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজ।
মিশরের দুর্দান্ত শুরু ও লিড
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে মিশর। খেলার ১৫তম মিনিটেই ওয়াই ইব্রাহিমের চমৎকার গোলে লিড নেয় তারা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মিশরের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। বিরতির পর ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে এম জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেয় মিশর। যখন মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছে, তখনই শুরু হয় মেসি-বাহিনীর অবিশ্বাস্য রূপকথা।
আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (১-২)। এই গোলের ঠিক চার মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৩তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে জাদুকরী শটে গোল করে স্টেডিয়ামজুড়ে উন্মাদনা তৈরি করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি (২-২)।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯০+৩ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের করা জয়সূচক গোল মিশরের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয় এবং ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসে হাফটাইমের আগে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে এর আগে জয়ের ইতিহাস নেই।
ম্যাচের পরিসংখ্যান যা বলছে
স্কোরলাইন হাড্ডাহাড্ডি হলেও পুরো ম্যাচ জুড়েই দাপট দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬১ শতাংশ সময় বল ছিল আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে, যেখানে মিশরের ছিল ৩৯ শতাংশ। আর্জেন্টিনা গোল অভিমুখে মোট ১৭টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল অন টার্গেট (শটস অন টার্গেট)। অন্যদিকে মিশর মাত্র ৪টি শট নিতে সক্ষম হয়, যার মধ্যে ২টি ছিল অন টার্গেট।
আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে মোট ৬০০টি পাস আদান-প্রদান করেন, যার পাস অ্যাকুরেসি বা নির্ভুলতা ছিল ৯১ শতাংশ। সেখানে মিশর ৩৩৭টি পাস দেয় ৮৩ শতাংশ নির্ভুলতায়। ম্যাচে ফাউলের দিক থেকে আর্জেন্টিনা ১৩টি এবং মিশর ১০টি ফাউল করে। মিশরীয় ফুটবলাররা ম্যাচ জুড়ে মোট ৪টি হলুদ কার্ড দেখলেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখেননি। এছাড়া কর্নারের ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনা (৬টি) মিশরের (১টি) চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।
এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর আর্জেন্টিনা এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত।