Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

নান্দনিক নয় উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুলাই,২০২৬, ০৫:৫৭ এ এম
নান্দনিক নয় উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল ছেড়ে খেলোয়াড়রা যেন মুষ্টিযুদ্ধে মেতে ছিল। এরই মাঝে এমবাপ্পের একমাত্র জয়সূচক গোল। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স ১ : ০ প্যারাগুয়ে
নান্দনিক ফুটবল বলতে যা বোঝায়, এই ম্যাচে তা ছিল না। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে যেভাবে ম্যাচ জমে ওঠে, ছিল না তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও। তারপরও শেষ ষোলোর ফ্রান্স–প্যারাগুয়ে ম্যাচটিতে উত্তেজনার কমতি ছিল না একটুও। একের পর এক কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি, তর্কবিতর্ক আর একে অপরের দিকে তেড়ে যাওয়া মিলিয়ে ম্যাচজুড়ে ছড়াল উত্তাপ।

আর সেই উত্তপ্ত লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের কৌশল ছিল ‘আগে দরজা বন্ধ’ নীতি। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে প্রায় ৯০ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল ফ্রান্সের কাছে। কিন্তু এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের একের পর এক আক্রমণ বারবার আটকে গেছে পাঁচ ডিফেন্ডারের গড়া প্যারাগুয়ের রক্ষণে। প্রথম ২০ মিনিটে কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ফরাসিরা।

গোছানো ফুটবল না হলেও ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ভিন্ন এক ঘটনায় প্রথম বড় উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্দ্রেস কুবাসের ট্যাকলে এমবাপ্পে মাটিতে পড়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়েরা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ পরিস্থিতি সামাল দেন সে যাত্রায়।

প্রথমার্ধে গোলমুখে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি মাত্র তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে বিরতির আগে কোনো দলই অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি।

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় ফ্রান্স। ৫২ মিনিটে গোলকিপার মাইক মাইনিয়ঁর লম্বা পাসে এমবাপ্পে একাই বল নিয়ে ছুটেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দারুণ ট্যাকলে প্যারাগুয়েকে বাঁচান হুয়ান কাসেরেস। সেই কর্নার থেকে দ্রুত খেলা শুরু করে দেম্বেলে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন, তবে তাঁর শট লাগে সাইড নেটে। তিন মিনিট পর আবারও গোলের কাছাকাছি যায় ফ্রান্স, তবে কোনের দূরপাল্লার জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ে গোলকিপার অরলান্দো গিল।

একের পর এক আক্রমণ সামলে ৬৫ মিনিট পর্যন্ত সমতা ধরে রাখে প্যারাগুয়ে। এরপর দৃশ্যপটে আসেন বদলি নামা দেজিরে দুয়ে। দারুণ নৈপুণ্যে বক্সে ঢুকে পড়া দুয়েকে পেছন থেকে ফেলে দেন দিয়েগো গোমেজ। রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে গেলেও ভিএআরের পরামর্শে মনিটর দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। পেনাল্টি পায় ফ্রান্স।

৭০ মিনিটে স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। শান্ত মাথায় নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি অধিনায়ক। এটি এবারের বিশ্বকাপে তাঁর সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল। একই সঙ্গে টানা তিন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গোল করার কীর্তিও গড়লেন ফরাসি তারকা। এবারের আসরে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে, আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলসংখ্যায় মেসির (২০ গোল) ঠিক পরেই তাঁর অবস্থান।

গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে কিছুটা ওপরে উঠে খেলার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণে কোনো আতঙ্ক ছড়াতে পারেনি। উল্টো শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পায় ফ্রান্স। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দুয়ের পাস থেকে এমবাপ্পের পরপর দুটি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল। তাঁর সেই জোড়া সেভ না হলে ব্যবধান আরও বড় হতো।

ফ্রান্সের এই আক্রমণের ফাঁকেই দুই দলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে হাতাহাতিতে জড়ান। একের পর এক ট্যাকলের শিকারে বিরক্ত হয়ে ৭৭ মিনিটে কাসেরেসকে ফেলে দেন এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ে গালারজার কড়া ট্যাকলের শিকার হওয়া ওলিসেও কিছুক্ষণ পর প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডারকে পাল্টা ফেলে দেন।

এমনকি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে দ্রুত তাঁদের আলাদা করা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে ফ্রান্স কোচ দেশমকে ম্যাচের মধ্যেই একাধিকবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে দাঁড়িয়ে বাধা দিতে দেখা গেছে।

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলেই ১–০ ব্যবধানের জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল ফ্রান্স। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)