ক্রীড়া ডেস্ক
ডিএলএস আইনে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ছবি: এ এফ পি
ওয়ানডে ক্রিকেটে আগের ২২ বারের দেখায় জয় ছিল মোটে একটি—২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দুই দশক। অবশেষে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অধরা সেই জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে স্বাগতিকরা। জবাবে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর বৃষ্টি নামলে ডিএলএস আইনে ৮৬ রানের ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ ভিত্তি এনে দেন দুই টপ অর্ডার ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তামিম ৫৪ এবং শান্ত খেলেন ৬৭ রানের চমৎকার দুটি ইনিংস। তবে ইনিংসের আসল রূপকার ছিলেন চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মিডল অর্ডারে নেমে ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৬ রানের এক অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। মোসাদ্দেকের এই দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করেই ২৮৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই কোণঠাসা করে ফেলেন বাংলাদেশি পেসাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই গতি আর সুইংয়ে ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে এসে ডেঞ্জারম্যান মার্নাশ লাবুশেনকে এলবিডাব্লিউ এর ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিস ৪৯ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একাদশে তরুণ পেসার নাহিদ রানা আসতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। ইংলিসকে আউট করার পর অজি অধিনায়কের সঙ্গে কিছুটা বাকবিতণ্ডায় জড়ান রানা। আর তাতেই যেন আরও তেতে ওঠেন এই স্পিডস্টার।
তার করা আগুনের গোলার মতো একে একে পরাস্ত হন অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও জাভিয়ের বার্টলেট। একদিকে নাহিদ রানার গতি, অন্যদিকে মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে কুপার কনোলি (৩৫) ও থিতু হওয়া অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭) সাজঘরে ফিরলে মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ১২৮ থেকে ৮ উইকেটে ১৪০ রানে পরিণত হয়। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় অজিরা।
নবম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন এক প্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। তবে তার এই লড়াই কেবল অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। ইনিংসের ৪৩তম ওভারের খেলা চলাকালীন মিরপুরে নামে মুষলধারে বৃষ্টি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বৃষ্টি না থামায় আম্পায়াররা বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে মাত্র ৪১ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করেন গতিদানব নাহিদ রানা। এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান ২টি করে এবং তাসকিন আহমেদ নেন ১টি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪)।
অস্ট্রেলিয়া: ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (ক্যারি ৪৭, গ্রিন ফিফটি*, কনোলি ৩৫; নাহিদ ৪/৪১, মোসাদ্দেক ২/২০, মোস্তাফিজ ২/৩৮)।
ফলাফল: বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী।