Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

তিন মাস সময়, এর আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে: তামিম

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল,২০২৬, ১০:৫৫ এ এম
তিন মাস সময়, এর আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে: তামিম

বিসিবি এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল ছবি: সংগৃহীত

মোহাম্মদ ইসামের সাক্ষাৎকারে  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল কথা বলেছেন দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য, নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের ক্রিকেটের প্রসারের নানা পরিকল্পনা নিয়ে।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব আর বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কতটা?

তামিম ইকবাল: সত্যি বলতে, পার্থক্যটা বিশাল। অধিনায়ক হিসেবে আপনি শুধু মাঠের ক্রিকেট আর খেলোয়াড়দের কথা ভাবেন। কিন্তু বোর্ড সভাপতি হিসেবে আপনাকে সামগ্রিক উন্নয়নের কথা ভাবতে হয়—খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে বোর্ডের কর্মীদের কথাও মাথায় রাখতে হয়। এখানে ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই পদে বসে আপনি আবেগতাড়িত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; আপনাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে।

প্রশ্ন: আপনার অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা কি এই পদে কোনো অনুপ্রেরণা বা সাহায্য দিচ্ছে?

তামিম: বেশ কিছু ব্যাপার আমাকে অবশ্যই সাহায্য করছে। আধুনিক ক্রিকেটাররা কীভাবে চিন্তা করে, তাদের পছন্দ-অপছন্দ কী—সেটা আমি বুঝি। ড্রেসিংরুমে থাকার সময় ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে আমাদের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হতো, তা আমার মনে আছে। ফলে খেলোয়াড়রা বোর্ডের কাছে ঠিক কী প্রত্যাশা করে, সেটা আমার জানা। আগে প্রায়ই শোনা যেত যে বোর্ড আর খেলোয়াড়দের মধ্যে মানসিকতার দূরত্ব আছে; আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না, তবে আমি এই দূরত্বটা ঘোচাতে চাই।

বোর্ডের বাইরে থাকাকালীন আমি অনেক ছোট ছোট সমস্যার কথা ভাবতাম যেগুলোর সমাধান দরকার। সামনেই নির্বাচন, তাই অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে আমার হাতে সময় খুব কম। বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে, তবে ছোট ছোট পরিবর্তন এনেও অনেক বড় পার্থক্য গড়ে তোলা সম্ভব। এটা মানুষের মনে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে।

প্রশ্ন: আপনি বিসিবির সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, এমনকি বিশ্ব ক্রিকেটেও আপনি অন্যতম কনিষ্ঠ বোর্ড প্রধান। আইসিসি এবং অন্যান্য বোর্ডের সাথে আপনার যোগাযোগ কেমন হবে?

তামিম: আমি সবার সাথে যোগাযোগ বাড়াতে চেষ্টা করছি। আমি স্বচ্ছ যোগাযোগে বিশ্বাসী। অংশীদারদের সাথে ডিল করার সময় আপনাকে আরও বেশি কৌশলগত এবং যৌক্তিক হতে হবে। আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিশন বা লক্ষ্যগুলো যদি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারি, তবে সব বোর্ডই তা ইতিবাচকভাবে নেবে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেখানে পৌঁছাতে চায়, সেখানে প্রতিটি বোর্ডের কাছ থেকে আমাদের কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন—তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই। আমি ক্রিকেটকে একটি বড় পরিবারের মতো দেখি, যেখানে বড়রা ছোটদের বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়।

প্রশ্ন: দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনি প্রথম যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, তা হলো গ্যালারিতে দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা।

তামিম: ভক্তরাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার, কিন্তু আমরা তাদের কী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি? যে মানুষটি ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটে, সে কীভাবে ২৫০ টাকা দিয়ে বিরিয়ানি কিনে খাবে?

বিসিবি অন্তত আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন সবাইকে বিনামূল্যে খাবার পানি সরবরাহ করতে পারে। স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধার কথা যদি বলি, মিরপুর স্টেডিয়াম তৈরি হওয়ার পর থেকে তেমন কোনো বড় সংস্কার হয়নি। আমি সেখানকার টয়লেটগুলোর অবস্থা দেখেছি; কোনো অভিভাবকই চাইবেন না তার সন্তানকে এমন টয়লেটে নিয়ে যেতে। তাই আমার দায়িত্ব কী? বাংলাদেশ দল মাঠে কেমন ব্যাট বা বল করবে, সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই; কিন্তু একজন দর্শক মাঠে এসে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, সেটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। রাতারাতি সব বদলে ফেলা সম্ভব নয়, তবে কিছু পরিবর্তন আমি অবশ্যই আনব।

প্রশ্ন: আপনি কি শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবেই থাকছেন, নাকি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বোর্ড নিয়ে কিছু ভাবছেন?

তামিম: আমি আমার প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই পরিষ্কার করে দিয়েছি যে, আমি আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা আমার দায়িত্ব। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অংশীজনরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচন পাওয়ার যোগ্য। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, খেলোয়াড়রা ভুগছিল। আমি চাই না সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হোক। নির্বাচনের পর সুযোগ পেলে আমি আমার ভিশন অনুযায়ী কাজ শুরু করব।

যেমন, জাতীয় দলের পাশাপাশি মানসম্পন্ন ক্রিকেটার তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রিকেটারদের তুলে আনার জন্য কোন কোন পথ খোলা দরকার, তা আমাকে জানতে হবে। সারাদেশে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে এবং ম্যাচের সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ক্রিকেটের প্রচার বাড়াতে হবে। ক্রিকেট দেশের এক নম্বর খেলা বলেই এর প্রচারণা বন্ধ করা যাবে না। বড় বড় কোম্পানিগুলো সবসময় তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার চালিয়ে যায় যাতে মানুষ তাদের ভুলে না যায়। আমাদেরও শহর থেকে গ্রামে ক্রিকেটের প্রচার বাড়াতে হবে।

"মাঠে বাংলাদেশ কেমন ব্যাট বা বল করবে তা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তবে একজন দর্শক মাঠে এসে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন তা আমি নিশ্চিত করতে পারি।"

প্রশ্ন: কয়েক মাস পরেই নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নারী ক্রিকেট নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

তামিম: সবার আগে আমি আমাদের নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। গত কয়েক বছরে তারা যে ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে (সাবেক নির্বাচকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ), তাতে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়াই আমার এক নম্বর অগ্রাধিকার। উন্নতি বা বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা একটু পরে ভাবলেও চলবে। একজন খেলোয়াড়ের বাবা-মা তাদের মেয়ে কত রান করল বা উইকেট পেল, তা নিয়ে যতটা না চিন্তিত, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। বিসিবি প্রধান হিসেবে আমার কাজ হলো সেই পরিবারকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া।

প্রশ্ন: সাবেক অধিনায়ক হিসেবে আপনি কি জাতীয় দলের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন?

তামিম: আমি পেশাদার উপায়ে দলের সাথে কাজ করতে চাই। দীর্ঘ সময় খেলেছি বলে অনেক কিছুই জানি, কিন্তু সারাক্ষণ আইডিয়া দেওয়া বা নাক গলানো দলের জন্য ভালো নয়। আগের বোর্ড নির্বাচকদের নিয়োগ দিয়েছে, তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। আমি যদি সব বিষয়ে নির্দেশ দিতে শুরু করি এবং দল ভালো না করে, তবে কে কার কাছে জবাবদিহি করবে? আমি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করব, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেব না। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

প্রশ্ন: ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এটা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা কী?

তামিম: যখন একদল জনপ্রিয় খেলোয়াড় অবসরে যায়, তখন ক্রিকেটে একটা ধাক্কা লাগে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের পাঁচজন জনপ্রিয় ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাদের মধ্যে মাত্র একজন একটি ফরম্যাটে খেলছেন। এখানেই প্রচারণার গুরুত্ব। এ দেশের মানুষ ক্রিকেট ভালোবাসে, আমাদের শুধু সেই অনুভূতিটা বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে। আপনার প্রিয় ক্রিকেটার হয়তো খেলছেন না, কিন্তু 'বাংলাদেশ' তো খেলছে। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের শিশুদের কাছে হিরো হিসেবে তুলে ধরা বিসিবির দায়িত্ব। আমি যদি গণমাধ্যমে গিয়ে খেলোয়াড়দের সমালোচনা করি (যা অতীতে হয়েছে), তবে তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে কোনো সাহায্য করবে না।

প্রশ্ন: বিসিবি নির্বাচন কত দ্রুত হতে পারে?

তামিম: আমাদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তবে এর আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

প্রশ্ন: সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করার পরিকল্পনা কী?

তামিম: উপমহাদেশে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কম হলে অনেকেই সহজে মেনে নিতে চায় না। তাই সবাইকে যথাযথ সম্মান দেওয়াটা আমার দায়িত্ব। এখানেও যোগাযোগটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি আমার পরিকল্পনা সবার সাথে শেয়ার করি, তবে মানুষ ধীরে ধীরে আমার ওপর আস্থা রাখা শুরু করবে। আমি সবাইকে সাথে নিয়ে চলতে চাই। আমি এখানে শাসন করতে বা রুক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আসিনি। এখানে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের জায়গা নেই। সভাপতির চেয়ারে বসার পর আমার অহংকার আর রাগকে বিসর্জন দিতে হবে। এই মানসিকতা নিয়েই আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিতে চাই।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)