Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ঘরে বাইরে চরম ঝুঁকিরমুখে শিশুরা : ৪৩ মাসে নিখোঁজ ৭২ হাজার

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৩২ এ এম
ঘরে বাইরে চরম ঝুঁকিরমুখে শিশুরা : ৪৩ মাসে নিখোঁজ ৭২ হাজার

শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা নিজের পরিবার ও ঘর। তবে বর্তমান সময়ে নিজের ঘরেও শিশুরা নিরাপদ থাকতে পারছে না। যে পাড়া-মহল্লা, বিদ্যালয় কিংবা মাদ্রাসায় শৈশবের দুরন্তপনায় সময় কাটার কথা, সেখানেও শিশুরা শিকার হচ্ছে নির্মম নৃশংসতা ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের। দেশের সামগ্রিক সামাজিক সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে শিশু নিরাপত্তা এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। ঘর এবং বাহির—উভয় পরিবেশেই শিশুরা পরিণত হয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও সহজ শিকারে।

অপরাধ ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, চারপাশ এভাবে অনিরাপদ হয়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু গভীর সামাজিক ও আইনি সংকট কাজ করছে। সমাজে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ বিস্তার, মাদকের থাবা, আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বলতা, পারিবারিক সচেতনতার অভাব এবং প্রযুক্তির মারাত্মক অপব্যবহার এর মূল কারণ। কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি শিশুদের বেড়ে ওঠার সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে এক বড় ধরনের প্রশ্ন সামনে তুলে এনেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছর সাত মাসে (৪৩ মাস) সারা দেশে মোট ৭২ হাজার ৪৮ ৯টি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৩ সালে সারা দেশে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে তা একলাফে বেড়ে ২২ হাজার ৫৫০টিতে পৌঁছায়। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু করা হয়েছে। এতে করে নিখোঁজের ঘটনাগুলো পুলিশের খাতায় নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে, যার কারণে বিগত বছরের তুলনায় পরিসংখ্যানে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, নিখোঁজ হওয়া এসব শিশুদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি শিশুকে তারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে ঠিক কতজন জীবিত অবস্থায় স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরেছে এবং কতজনের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত কোনো পৃথক তথ্য বা ডেটাবেজ পুলিশ সদর দপ্তরে সংরক্ষিত নেই।

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসের (জানুয়ারি থেকে জুলাই) পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সময়ে সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার করতে পারলেও ২ হাজার ৩৮ জন শিশু আজও নিখোঁজ রয়েছে; যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

বয়সের ভিত্তিতে চলতি বছরের চিত্র:

শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী: এই বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ৪৭৪টি নিখোঁজের জিডি করা হয়। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ৬৮ জন শিশু আজও উদ্ধার হয়নি।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী: এই বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও ১ হাজার ৯৭০ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
শিশু নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যের কারণ

শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা কেন নিখোঁজ হচ্ছে, তার বেশ কিছু নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ছোট শিশুরা মূলত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো অপরিচিত বা জনবহুল স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে হারিয়ে যায়। কোমলমতি এই শিশুরা ছোট হওয়ার কারণে নিজেদের নাম কিংবা বাবা-মায়ের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে বলতে পারে না। অনেকে একা একা বাসায় ফিরতে গিয়ে ভুল পথে অন্য কোনো সুদূর এলাকায় চলে যায়।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়া বা বাড়ি ছাড়ার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সমস্যা কাজ করে। অভিমান করা, পড়ালেখার তীব্র মানসিক চাপ, অনৈতিক কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ে সমাজের বা পরিবারের কাছে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে চলাফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের বাহানা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং সহপাঠী বা বন্ধুবান্ধবের নেতিবাচক প্রভাব এর অন্যতম কারণ।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৫৪টি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে ৩১ জনেরও বেশি শিশুর অকাল ও নৃশংস মৃত্যু হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করা এই তালিকায় দেখা যায়, ২৫৪ শিশু নিহতের ঘটনার বিপরীতে মামলা হয়েছে মাত্র ৮১টি।

আসকের তথ্য অনুযায়ী, নিহত এসব শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ৪৩ শতাংশেরই (১০৯ জন) বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৮ বছর। শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশু ছিল ৭৪ জন, যা মোট নিহতের ২৯ শতাংশ। আর ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী সহিংসতার শিকার শিশু ছিল ৬০ জন।

ধর্ষণের পর হত্যা: সবচেয়ে বেশি ৬৮ জন শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শারীরিক নির্যাতন: শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৪৮ জন শিশুকে।
গৃহ নির্যাতন: বিভিন্ন সময় গৃহে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪৯ শিশু।
নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার: নিখোঁজ হওয়ার পর লাশ পাওয়া গেছে ৩৬ শিশুর।
অন্যান্য: এ ছাড়া বিভিন্ন নির্জন স্থান থেকে ২৩ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে ধর্ষণের চেষ্টা, আত্মহত্যা, শিক্ষকের নির্যাতন, অপহরণের পর হত্যা এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ের নৃশংস শিশু হত্যার ঘটনাবলী

সম্প্রতি দেশের নানা স্থানে শিশুদের ওপর পাশবিক নৃশংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। এর পরদিন গত ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই দিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বাবার নিথর দেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তিন শিশু সন্তানের লাশ। মানিকগঞ্জে মা-বাবার লাশের পাশে পড়ে ছিল দেড় বছরের শিশু আলিজা নূরের নিথর দেহ।

এর আগে পাবনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়।

সাভারের আশুলিয়া থেকে সম্প্রতি এক নবজাতকসহ স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, যেখানে নিহত সিপার বয়স ছিল ১০ বছর এবং ইকরার বয়স ছিল ১৭ বছর। আগস্টে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর ১২ বছরের ছেলে আয়ুশকে হত্যা করা হয়। একই মাসে মাদারীপুরের শিবচরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীর লাশের পাঁচ দিন পর তাঁর এক বছরের সন্তানের ভাসমান লাশ।

নিখোঁজ অনেক শিশুর পরিবারের অভিযোগ, সন্তান হারিয়ে যাওয়ার পরপরই পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তাদের তৎপরতা দ্রুত শুরু হয় না। থানা-পুলিশ শুরুতে জিডি নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খুঁজে দেখতে বলে। এতে উদ্ধার কাজের সবচেয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয় ১২ বছরের শিশু হাবিবুল্লাহ নাঈম। সে নাটোরের নলডাঙ্গার নাটোর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল ইসলাম ও শরীফা খাতুনের ছেলে। নাঈমের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকলেও পুলিশ এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব আল হোসাইন জানান, শিশুটিকে খুঁজে পেতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

চাঁদপুরের মতলব থেকে ৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় ১০ বছরের শিশু সাবের ইসলাম শাফি। দুদিন পর স্থানীয় থানায় জিডি করেন শিশুটির বাবা সোহেল প্রধান। শাফির পোশাকশ্রমিক মা সাথী আক্তার আকুল কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, "আমি থানায় গেলে পুলিশ কেবল বলে দেখতেছি। কিন্তু রাস্তার সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত একবার দেখল না তারা। ১৫ দিনেও পুলিশ কিছু বলতে পারছে না।"

এ বিষয়ে ওই জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মতলব থানার উপপরিদর্শক শুভজিৎ পল বলেন, "ছেলেটা রাগ করে হয়তো চলে গেছে, হয়তো লেখাপড়া ভালো লাগে না, তাই নিজে কোথাও পালিয়ে আছে। তার সঙ্গে মোবাইল নেই, তাই কোনো কিছু পাচ্ছি না।"

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় কাজ করছে 'মুন অ্যালার্ট' নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তাদের পরিচালনকারী সংস্থা 'জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি মো. সাদাত রহমান বলেন, "নিখোঁজের পর থানায় গেলে জিডি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিলে শিশুটিকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা সহজ। এই সময় পেরিয়ে গেলে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল রূপ নেয়। কিন্তু পুলিশ সাড়া দেয় বিলম্বে। নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে পুলিশের আলাদা বিশেষায়িত সেল গঠন করা জরুরি, যাতে আধুনিক লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে তারা তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করতে পারে।"

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, "নিখোঁজের পরপরই পুলিশ আন্তরিকভাবে তৎপর হলে এত নৃশংস ঘটনা ঘটত না। থানা-পুলিশ জিডি ও মামলা নিতে চায় না কারণ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটাকে নেতিবাচক অপরাধ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। অপরাধের সংখ্যা কম দেখানোর জন্য পুলিশ জিডি এড়িয়ে চলতে চায়। নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকে শিশুদের নির্ভরযোগ্য আস্থার জায়গায় পরিণত হতে হবে।"

সমগ্র বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, নিখোঁজের ঘটনায় করা ৯০ শতাংশ জিডিরই সমাধান করা হয় এবং তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। বাকিদের উদ্ধার না হওয়ার পেছনে বৈবাহিক কারণে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আত্মগোপনে থাকার মতো বিষয়গুলো জড়িত থাকে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও বাংলাদেশের শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন'-এর ২০২৫ সালের বিশ্বব্যাপী 'কিডস রাইটস ইনডেক্স'-এ ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম। (প্রতিবেশী দেশ ভারত ৯৬তম, পাকিস্তান ১৫৫তম এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার শীর্ষে রয়েছে গ্রিস)। শিশুদের জীবনের অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা এবং সার্বিক পরিবেশের ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে এই বৈশ্বিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকারকর্মী তাহমিনা রহমান বলেন, "শিশুদের বেড়ে ওঠার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার চূড়ান্ত দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমরা নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুর লাশ উদ্ধার হতে দেখতে চাই না। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, ইন্টারনেটে কী দেখছে বা কীভাবে সময় কাটাচ্ছে—সেদিকে পরিবারের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।"

অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজে মানবিকতাবোধের বিপর্যয় ঘটেছে। শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলে খুব সহজে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিশুবান্ধব হতে হবে, অন্যথায় সামাজিক কাঠামোর এই বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে না।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)