নিজস্ব প্রতিবেদক
একসাথে পথে বের হয়েছিলেন দুই বন্ধু—শাওন ও মিল্লাদ। হাসি-আনন্দে ভরা পথচলাটা যে এত দ্রুত শোকে পরিণত হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি স্বজনরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট কলেজ এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই দুই যুবক।
নিহতরা হলেন—যশোরের ঝুমঝুমপুর-বালিয়াডাঙ্গা এলাকার আজাদের ছেলে শাওন এবং হামিদপুর এলাকার পিতাহারা মিল্লাদ (মৃত আবুলের ছেলে)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে মোটরসাইকেলে যশোর শহর থেকে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন দুই বন্ধু। নতুনহাট কলেজ এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়কে ছিটকে পড়ে তারা রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাতে থাকেন। আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বন্ধুর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হতে থাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বাঁচাতে হলে এখনই ঢাকায় নিতে হবে। স্বজনরা শেষ চেষ্টা হিসেবে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু নড়াইল পার হতেই চিরতরে চোখ বুজে ফেলেন মিল্লাদ, আর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পৌঁছাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শাওন।
যে অ্যাম্বুলেন্সে চেপে জীবনের তাগিদে ছুটেছিলেন, সেই অ্যাম্বুলেন্সেই শেষ পর্যন্ত দুটি নিথর দেহ হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে আসেন তারা। প্রিয়জনদের এমন অকাল ও করুণ বিদায়ে পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক অ্যাম্বুলেন্সটি পালিয়ে যায়। যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, গাড়িটি শনাক্ত ও ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটনে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।