নিজস্ব প্রতিবেদক
জলাবদ্ধ রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। ছবি: সংগৃহীত
শার্শায় পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনটি মাটি দিয়ে ভরাট করায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই জনদুর্ভোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) আদেশ দিয়েছেন আদালত। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম এই অমানবিক ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে শার্শা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফরহাদ হোসেন এ আদেশ নিশ্চিত করেছেন।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আল-মাদিনাতুল ফোরকানিয়া কওমি মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২০২১ সালে ৫০০ ফুটের একটি পাকা ড্রেন নির্মাণ করে ইউনিয়ন পরিষদ। ড্রেনটি নির্মাণের পর থেকে এলাকার পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত ২৪ জুন স্থানীয় এক নারী তার নিজস্ব জমি বরাবর ড্রেনের অংশটি সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন।
এর ফলে বর্তমান ভরা বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুলমাঠে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই থমকে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। একই সাথে মাদ্রাসা পাড়ার প্রধান চলাচলের রাস্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
জনসাধারণের এই তীব্র দুর্ভোগের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে তা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯০(১)(সি) ধারার আওতায় আমলে নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিচারকের নজরে আসে। প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনা ও জনদুর্ভোগ পর্যালোচনা করে আদালত মনে করেন, এখানে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১২ ও ১৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২৯০ ধারা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। এমন যৌক্তিক সন্দেহের ভিত্তিতেই আদালত জনস্বার্থে বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন মনে করেন এবং শার্শা থানার ওসিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ড্রেন ভরাটকারী পারভিনের মামা ইমানুর রহমান জানান, পারভিনের মালিকানাধীন ৫ শতক জমির ওপর দিয়ে এই ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত কারণে সে এখন আর তার জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দিতে রাজি নয়।
এই চরম ভোগান্তির বিষয়ে রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি উপরমহলের সবাই অবগত আছেন। বর্তমানে স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন কমিটি গঠনের পর সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।