Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ঝিকরগাছায় শ্বেতগঙ্গা খাল খননে অনিয়ম

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ জুন,২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ জুন,২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ঝিকরগাছায় শ্বেতগঙ্গা খাল খননে অনিয়ম

ঝিকরগাছায় শ্বেতগঙ্গা খাল খননে অনিয়ম ছবি: ঝিকরগাছা প্রতিনিধি

ঝিকরগাছায় শ্বেতগঙ্গা খাল খননে অনিয়ম

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ২ লাখ টাকার এ প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই গায়েব হয়ে গেছে কাজ সম্পন্ন হয়েছে তিন ভাগের দুই ভাগ।

স্থানীয় সূত্রেয় জানা যায় , শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচির সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আলীম গাজী। কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব।
কমিটির সদস্য আয়ুব হোসেন জানান, শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেরাই খননকাজ সম্পন্ন করেন। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মাত্র চার দিন কাজ করা হয়। প্রতিদিন ৫০০ টাকা হাজিরায় যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক কাজ করে। চার দিনে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হয় ৭৬ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে কলমে প্রকল্প কমিটি থাকলেও প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ফরহাদ হোসেন প্রকল্পটি এনে ইউপি সদস্যকে দিয়ে কাজ করে। অথচ ২ লাখ টাকার এ প্রকল্পে বাস্তবে কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার। অবশিষ্ট অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আলীম গাজী জানান, সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে বলেন, এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত একটি প্রকল্প। এলাকার স্বার্থে কাজটি করে দিতে বলেন। আমি তাঁর কথা বিশ্বাস করে খালি চেকে স্বাক্ষর করি। পরে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন, পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়) অফিসের জন্য নাকি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি সেখানে কখনও যায়নি। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।

এদিকে, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনের কার্যালয়ের নামে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা দেখি আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না। সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয়, প্রশাসনের নীরবতা এবং খাল খননের নামে দায়সারা কাজের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)