ধ্রুব ডেস্ক
পুশইন রুখতে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
দেশের পাঁচটি জেলার পৃথক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের (অনুপ্রবেশ) একাধিক ভারতীয় চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (০৬ জুন) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা, নওগাঁ, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফের এই পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়।
শনিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে নো-ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো লাইন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। বিজিবির টহল দলের সদস্যরা জিরো লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেন এবং ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সদস্যরা যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তিন ব্যক্তির অনু প্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। বিজিবির টহল দল জিরো লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দিলে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
নওগাঁয় ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা করমডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জন ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টায় বাধা প্রদান করেন।
এদিকে, লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনে বিজিবি সদস্যরা জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বারখাতা এবং পঁয়ষট্টিবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ২১ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করেন।
এছাড়া লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধীনে বিজিবি সদস্যরা দীঘলটারী সীমান্ত এলাকা দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি চেষ্টা নস্যাৎ করে দেন। একই ব্যাটালিয়ন দুর্গাপুর সীমান্তে আরও চারজনকে পুশ-ইনের আরেকটি চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়। বিজিবি জানিয়েছে, পুশ-ইনের শিকার ওই ব্যক্তিরা বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের অভ্যন্তরে একটি চরের মধ্যে অবস্থান করছেন এবং বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পঞ্চগড়ে নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধীনে পঞ্চগড়ের বারোবাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ১০ জন ব্যক্তিকে নিয়ে আসে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে যে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক, তবে বিজিবির বিবৃতি অনুযায়ী তারা এর পক্ষে কোনো সহায়তামূলক প্রমাণ বা নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। বিষয়টি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
অন্যদিকে, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধীনে কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে আসামের মহাদেব থানার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর আগে ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তিকে জড়ো করা হয়েছিল। তবে সীমান্তে বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাদের লেঙ্গুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা লঙ্ঘন করে সীমান্ত পারাপার বা পুশ-ইনের যেকোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বাহিনীটি জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সদা প্রস্তুত রয়েছে।