নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, এখন সময় দেশকে নতুনভাবে গড়ার। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টের পতনের পর জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এই সরকারের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা মহিলা দলের আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
আজ শনিবার সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক নার্গিস বেগম এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আট কোটি মানুষের হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তারই যোগ্য উত্তরসূরী বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে নতুনভাবে গড়ার সময় এসেছে। তার নেতৃত্বে জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের বুকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশুদের প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য 'নতুন কুঁড়ি'র সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর সেটি আবারও শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা জাগ্রত করতে হবে। তাদেরকে কেবল পাঠ্য বইয়ে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান নারীদের ঘরবন্দী না করে দেশ গঠনের কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। আজকে নারী সমাজের জাগরণ এবং সর্বক্ষেত্রে নারীর যে পদচারণা, তার সূচনাটা করেছিলেন তিনি। তিনিই নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়ে নারীর অগ্রযাত্রাকে আরও প্রসারিত করেছিলেন।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকীতে আমাদেরকে নতুন করে শপথ নিতে হবে, যাতে করে আগামীতে আর কোনো দেশবিরোধী শক্তির উত্থান না হয়। নতুন করে কেউ যেন আমাদের স্বাধীনতা হরণ করতে না পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে বেহেশতের প্রলোভন কিংবা পাঁচ ঘণ্টার কাজের কথা বলে কেউ যেন মা-বোনদের বিভ্রান্ত করতে না পারে।
যশোর জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমানের সভাপতিত্বে এবং নগর মহিলা দলের সভাপতি শামসুন্নাহার পান্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদা আক্তার, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক রাফাত আরা ডলি, জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা মোস্তফা, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হাসিনা ইউসুফ, সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি সেলিনা পারভীন শেলী, সদর উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা মোস্তফা, তিনটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের তালিকা ঘোষণা করা হয় ক-গ্রুপ: প্রথম স্থান অর্জন করে নুর আজমিয়া ফাতেমা, দ্বিতীয় আনিশা তাবাসসুম এবং তৃতীয় জাওয়াদ আফনান। খ-গ্রুপ: প্রথম স্থান অর্জন করে আইয়ান রেজা, দ্বিতীয় কাজী আয়াত সমৃদ্ধি এবং তৃতীয় রাদ এহতেশাম। গ-গ্রুপ: প্রথম স্থান অর্জন করে জুনায়েদ হোসেন, দ্বিতীয় সোহান এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে সোনালী আহমেদ সুচি।