ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে যশোরের ঝিকরগাছায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বর্ণাধ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৫টায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন বলেন, "স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষ আজও তাদের মৌলিক অধিকার ও প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে জনগণের সেই প্রত্যাশা আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বারবার আন্দোলন করা হলেও তা সুকৌশলে দমন করা হচ্ছে। বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য কাম্য নয়।"
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আলীম দাবি করেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীনরা দেশের প্রকৃত ইতিহাস বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া ইতিহাস জনগণের সামনে উপস্থাপন করছে। তিনি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠাই হতে পারে শহীদের রক্তের প্রতি প্রকৃত সম্মান।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মশিউর রহমান, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি আবিদুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রেজাউল ইসলাম ও হাফেজ রেজাউল করিম এবং পৌর আমির আব্দুল হামিদ।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা জামায়াত ও শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।