ইমরান হোসেন, কেশবপুর (যশোর) থেকে
জ্বালানি তেল সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট চরম জনদুর্ভোগ নিরসনে সরব ভূমিকায় নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী ছবি: ধ্রুব নিউজ
কেশবপুরে দীর্ঘদিনের জ্বালানি তেল সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট চরম জনদুর্ভোগ নিরসনে সরব ভূমিকায় নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী। সাধারণ মানুষের হাহাকার আর ভোগান্তি লাঘবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৪টার সময় উপজেলার সবকটি ফিলিং স্টেশনে আকস্মিক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।
গত কয়েকদিন ধরে কেশবপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জনবান্ধব এই নেতা নিজেই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযানে এমপির সাথে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায়।
অভিযান চলাকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের মজুদ রাখা ট্যাংকিগুলো ব্যক্তিগতভাবে খুলে দেখার নির্দেশ দেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে তল্লাশি তদারকি করেন। কোনো অসাধু উপায়ে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ছিল তার এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও স্টেশনের মজুত ট্যাংকগুলোতে কোনো তেল পাওয়া যায়নি।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, তেলের প্রধান ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা গ্রাহকদের সেবা দিতে পারছে না।
অন্যদিকে, স্টেশনে অপেক্ষারত ভুক্তভোগীদের সাথেও কথা বলেন এমপি। সেখানে উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টানা তিন দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা এক ফোঁটা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেনি। কৃষিকাজ ও জরুরি যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযান শেষে ফিলিং স্টেশনের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই যেন তা স্বচ্ছতার সাথে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানো হয়। সংকটের দোহাই দিয়ে কেউ যদি তেলের কৃত্রিম অভাব তৈরি করার চেষ্টা করে বা কালোবাজারির সাথে লিপ্ত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনস্বার্থ রক্ষায় এমপির এমন তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষ। সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, এমপির এই তদারকির ফলে দ্রুতই তেলের বাজার স্বাভাবিক হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।