❒ টানা দুদিন দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা
ধ্রুব রিপোর্ট
কুয়াশা ভেদ করে ওঠা সূর্য্যের মুখ ছবি: সংগৃহীত
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে থরথর করে কাঁপছে দক্ষিণ-পশ্চিমের জনপদ যশোর। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে সূর্য। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এই জেলায়। আজ শনিবার সকালে যশোরের তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ তা আরও কমে ৮.৮ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, জেলাজুড়ে এখন বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বেলা বাড়লেও কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের দাপটে রোদের উত্তাপ শরীরে লাগছে না। শীতের এই তীব্রতায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। মাফলার আর মোটা জ্যাকেটে ঢেকেও যেন শীত মানানো যাচ্ছে না।
প্রকৃতির এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি পরাজিত হচ্ছেন সমাজের মেহনতি মানুষ। শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ভোরবেলা কয়েকশ মানুষ জড়ো হন শ্রম বিক্রির আসায়। কিন্তু হাড়কাঁপানো এই শীতে পাল্টে গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। ৩-৪শ মানুষের জায়গায় এখন উপস্থিতির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। যারাও আসছেন, হাড়কাঁপানো শীতে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না কাজ।
বাহাদুরপুর এলাকা থেকে আসা সুজন মিয়ার কণ্ঠে ঝরল চরম হতাশা। তিনি বলেন, “শীতে একদিন কাজ পাই তো তিনদিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় বেকার বসে আছি। ভোরবেলা এসে শীতে জমে বসে থাকি, কিন্তু কপালে কাজ জোটে না।”
একই অবস্থা নির্মাণ শ্রমিক মো. মিনহাজের। তিনি বলেন, ‘শীতে বাইরে দাঁড়াতে পারছি না, হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। কিন্তু ঘরে খাবার নেই, তাই বের না হয়ে উপায়ও নেই।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধু যশোর নয়; চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়েও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কুয়াশাচ্ছন্ন এই আবহাওয়ার কারণে সারা দেশেই ঠান্ডার অনুভূতি প্রকট হয়ে উঠেছে।