কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উঠতি বয়সী একাংশের বেপরোয়া মোটরবাইক চালানো, উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো এবং রাস্তায় দাপট দেখানোর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথে এসব মোটরবাইকের উৎপাত নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভীতসন্ত্রস্ত পথচারীরাও। এ পরিস্থিতিতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন সড়কে কিছু কিশোর ও তরুণ মোটরবাইক চালক বেপরোয়াভাবে চলাচল করেন। অনেক সময় উচ্চশব্দে হর্ন বাজিয়ে, দ্রুতগতিতে বাইক চালিয়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করে তাঁরা চলাচল করেন। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সন্তানদের স্কুল, কলেজ কিংবা মাদ্রাসায় পাঠিয়ে অনেক অভিভাবকই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় থাকেন। রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ দ্রুতগতির মোটরবাইক সামনে চলে আসায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মোটরবাইকের উচ্চশব্দের হর্ন শুধু পথচারীদের বিরক্তির কারণ নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশেও বিঘ্ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় এ ধরনের শব্দদূষণ ও বেপরোয়া চলাচল পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, সড়কে নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? উঠতি বয়সী চালকদের হাতে মোটরবাইক তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চালকের বৈধ লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোকে কেবল কিশোর-তরুণদের খামখেয়ালিপনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সড়ক নিরাপত্তা, জনদুর্ভোগ এবং মানুষের জীবন রক্ষার প্রশ্ন। সময়মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ অবস্থায় কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিয়মিত নজরদারি, বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, অপ্রয়োজনীয় উচ্চশব্দের হর্ন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোর অভিযোগের ব্যাপকতা ও দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কোটচাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সড়ক যেন কিশোর-তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ বাইক চালানোর জায়গা হয়ে না ওঠে, আর কোনো অভিভাবককে যেন সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়—এটাই এখন সাধারণ মানুষের দাবি।