ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট
আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছানি দিয়ে ডাকছে বাংলাদেশকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজটি টাইগারদের জন্য কেবল দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়, বরং এক নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। কাল বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। এই সোনালী সম্ভাবনাকে কোনো বাড়তি চাপ হিসেবে নয়, বরং দলের জন্য বড় এক ‘অনুপ্রেরণা’ হিসেবে দেখছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বর্তমানে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে টাইগারদের এ যাবৎকালের সেরা অবস্থান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং আগামী জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই ছয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটিতে জয় পেলেই প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে যাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে, পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে থাকা ক্যারিবীয় শিবিরও সেরা ছয়ে থেকে শেষ করতে মরিয়া। সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ও চাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টাইগার অধিনায়ক শান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি দলের ওপর কোনো মানসিক চাপ তৈরি করছে না।
"এটা আমার জন্য চাপের নয়, বরং অনুপ্রেরণার। এই সিরিজটি আমাদের চাপে ফেলছে না, কারণ আমরা প্রস্তুতি পর্ব থেকেই কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের পারফরম্যান্স ও নিজেদের খেলা নিয়ে আলোচনা করেছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা মাঠে বাড়তি কিছু করতে চাই না, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাই। দলের কাউকে অবিশ্বাস্য কিছু করার তাগিদ দিইনি। বরং নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে খেলতে চাই এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।"
পরিসংখ্যানের পাতায় এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে ক্যারিবীয়রা ১৫টিতে জয় পেলেও বাংলাদেশ জিতেছে ৫টি ম্যাচে, এবং বাকি ২ ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১২টি সিরিজের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৮টিতে, বাংলাদেশ ২টিতে এবং বাকি একটি সিরিজ ড্র হয়।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এটি দুই দলের পঞ্চম টেস্ট। এই ভেন্যুতে এর আগের চারটির মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩টিতে এবং বাংলাদেশ ১টিতে জয় পেয়েছিল। তাছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে খেলা সর্বশেষ ১০ টেস্টের মধ্যে ক্যারিবীয়রা ৭টিতে জয় তুলে নিয়েছে, বাংলাদেশ জিতেছে ২টি এবং ১টি ড্র হয়েছে। ২০২১ সালে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দেখায় বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল সফরকারী দলটি। ফলে অতীত পরিসংখ্যান ও কন্ডিশন বিবেচনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দল মিশ্র পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে গেছে। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে টাইগাররা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে দলের পেস বোলিং শক্তি বেশ আশাবাদী করে তুলেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। পেসার তাসকিন আহমেদের ফেরার পাশাপাশি স্কোয়াডে রয়েছেন এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের মতো তারকারা।
পেস অ্যাটাক নিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেন, "আমাদের পেস আক্রমণের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—প্রত্যেক পেসারই নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে। নির্দিষ্ট কন্ডিশনে কে খেলবে, কার কী দায়িত্ব—সবাই সেটা জানে। এটি দারুণ বিষয় যে, সিরিজের যেকোনো ম্যাচের জন্যই আমাদের বোলাররা মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে।"
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন টেস্টে মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, ঘরের মাঠে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টাইগাররা প্রত্যাশিত সাফল্য তুলে নিতে পারে কি না।