ধ্রুব ডেস্ক
ঢাকা মেট্রোরেল ছবি: বিবিসি
জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ঢাকার মেট্রোরেল চলাচলে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। গ্রিডে গোলযোগের ফলে মতিঝিল সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও আধুনিক বিকল্প ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সুবাদে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্রেন পরিচালনা করেছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়লেও নিজস্ব বিকল্প প্রযুক্তির সাহায্যে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত মেট্রোরেল সচল রাখা সম্ভব। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটে চলাচলকারী মেট্রোরেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি প্রধান সাবস্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে উত্তরা সাবস্টেশনে টঙ্গী থেকে এবং মতিঝিল সাবস্টেশনে মানিকনগর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মঙ্গলবার গ্রিড বিপর্যয়ের পর মতিঝিল সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয় বিকল্প সংযোগব্যবস্থার মাধ্যমে মূল নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহের দায়িত্ব উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে আসে, ফলে উত্তরা থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিয়ে পুরো রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে মেট্রোরেল চালু রাখতে দুটি শক্তিশালী ব্যাকআপ ব্যবস্থা রয়েছে—প্রথমটি হলো ৩৩ কেভি নিজস্ব জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড ছাড়াই প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চালনা করা সম্ভব। আর এই ব্যবস্থার বিদ্যুৎ ফুরিয়ে গেলে চালু করা হবে দ্বিতীয় মাধ্যম 'ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম' বা ইএসএস, যা মূলত শক্তিশালী ব্যাটারিতে সংগৃহীত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং এটি ব্যবহার করে ট্রেন আরও এক ঘণ্টা চালানো সম্ভব। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা ও ব্যাটারি ব্যাকআপ মিলিয়ে মোট তিন ঘণ্টা মেট্রো সেবা সচল রাখা যাবে, তবে এই তিন ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় গ্রিড স্বাভাবিক না হলে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডে আংশিক বিপর্যয়ের পরও উত্তরা সাবস্টেশন থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ায় মেট্রো চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি এবং সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও নিজস্ব বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রেন চালু রাখতে প্রস্তুত।